ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য সম্পর্কে জানুন

ক্যানসার হলো বর্তমান সময়ে সবথেকে বড় এবং মারাত্মক আত্মঘাতী একটি রোগ। বহুল পরিচিত ও আলোচিত জটিল এই রোগটি সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রমাগত বাড়িয়েই চলেছে তার আক্রমণ। তার এই আক্রমণের থাবা যখন যেখানে পড়েছে

 


ছারখার করে দিয়েছে সবকিছু। যেন সব রোগকে ছাড়িয়ে সে নিজেই এক রোগ জগতের মহা সম্রাট। তাই চলুন ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ রকমের খাদ্যের সাথে আজ আমরা পরিচিত হয়ে নিব।

সূচিপত্রঃ ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য 

  • ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য 


ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য 

ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য যেভাবে মানব শরীরকে রক্ষা করে চলেছে তা নিয়েই হবে আজকের আলোচনা। ক্যানসার হলো নিয়ন্ত্রণহীন কোষ বিভাজনের ফলে সৃষ্ট রোগ-বালাই এর সমষ্টি। ক্যানসার মানুষের শরীরে সরাসরি আক্রমণ করে না। প্রথম অবস্থায় এটি একটি স্লো প্রসেস এবং এটি শরীরের বি

ভিন্ন কোষে গিয়ে বাসা বাঁধে। ক্যানসার হলে তার চিকিৎসা খরচ সমূহ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। যা সব শ্রেণীর মানুষের পক্ষে বহণ করা খুবই দুষ্কর হয়ে দাঁড়ায়। 

ক্যানসার হওয়ার পরে অনেক চিকিৎসা নিয়ে তারপরে অনেকে সুস্থ্য হয়ে ওঠে, অনেকে ভুল চিকিৎসা করার জন্য বিপদ ডেকে আনেন, আবার অনেকে চিকিৎসার কাছে পরাজিত হয়ে  মৃত্যুবরণ করেন। তবে বর্তমানে বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে ক্যানসারের জীবানু ধ্বংস করে রোগীকে দীর্ঘ জীবন দান করা সম্ভব। যা আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার যুগান্তকারী বড় এক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত। 

ক্যানসার নিরাময়ের প্রধান অস্ত্র হলো খাদ্যাভাস। খাদ্যাভাসের কারণে শরীরে যেমন ক্যানসার সহ নানা রকমের রোগ-জীবানু হানা দেয়, তেমনি এর ফলে জীবন হয়ে ওঠে দুর্বিষহ। তবে ক্যানসারের মতো রোগ-জীবানু শরীরে যেন প্রবেশ করতে না পারে তার জন্য প্রথম কাজ হলো পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করা বা খাদ্যাভাসের পরিবর্তন নিয়ে আসা। খাদ্যাভাসের পরিবর্তনের ফলে শরীর থাকা জীবানু বের হয়ে যায় এবং প্রবেশ করতেও পারে না।

ক্যানসার প্রতিরোধ করতে যেসকল খাদ্য খাওয়া উচিৎ সেগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন ধরণের বাদাম, শীতকালীন সবজি ব্রোকলি, গাজর, অলিভ অয়েল, হলুদ, বেরি জাতীয় খাবার, গ্রীণ ট্রি,  টমাচটো,চর্বিযুক্ত মাছ, রসুন, শস্য দানা,, সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং ডাল ও শীম। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও ফাইবার থাকার কারণে এগুলো খাবার শরীরে ক্যানসার সহ বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে ও শরীরকে সুস্থ্য রাখতে সাহায্য করে।

ক্যানসার কি এবং কেন হয়

আমাদের শরীরের কোষগুলো একটা নিয়মের মধ্যে থেকে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এই নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ থেকে শরীরের কোষগুলোর নিয়মমাফিক বৃদ্ধিপ্রাপ্তি ঘটে ও আলাদা হয়। কিন্তু যখন কোন কোষ এই নিয়মকে অমান্য করে অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধিপায় এবং টিউমারের আকার ধারণ করে তখন তাকে বলা হয় ক্যানসার। এই ক্যানসারের জীবানু শরীরের জিনগত নিয়মের লঙ্ঘন করে বাকি কোষ গুলোর কাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে।

ক্যানসার একটি মারাত্মক রোগ তবে সঠিক চিকিৎসার ফলে এর থেকে বাঁচা সম্ভব। ক্যানসার এত শক্তিশালী একটি রোগ যা কিনা একাই যেকোন টিস্যু বা অঙ্গকে নষ্ট করে ফেলতে সক্ষম। সমগ্র বিশ্বে প্রায় ১০০ বা তার বেশী ধরণের ক্যানসার দেখতে পাওয়া যায়। যেসমস্ত কারণে ক্যানসার হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দীর্ঘ স্থায়ী প্রদাহ, কার্সিনোজেন, ভাইরাস জাতীয় এবং জেনেটিক মিউটেশন নামক পদার্থের কারণে শরীরে ভাইরাস সৃষ্টি হতে পারে। 

চলুন এখন জানবো কি কি কারণে ক্যানসার দেখা দেয়। যেসমস্ত কারণে শরীরে ক্যানসারের ভাইরাস বাসা বাঁধে প্রথম পর্যায়ে আমরা  সেইগুলোকে প্রধান ৩ টি শ্রেণীতে ভাগ করে নিতে পারি। সেগুলো হলো-
  • জেনেটিক কারণে ক্যানসার হয়।
  • পরিবেশ গত কারণে
  • চলাফেরা বা খাদ্যাভাসের কারণে ক্যানসার হয় এবং 
  • হরমোন জাতীয়কারণে

ক্যানসার সৃষ্টির জন্য দায়ী যেসব খাবার

বিশেষ কোন একটি খবার অথবা বিশেষ কোন পানীয় এককভাবে ক্যানসারের মত শক্তিশালী কোষের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে না। তবে অধিক পুষ্টিকর কিছু কিছু খাবার নিয়মিত খেতে পারলে ক্যানসারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। আবার কিছু খাবার আছে যেগুলো আমরা আমাদের মুখের স্বাদের জন্য খেয়ে থাকি, সময় বাঁচানোর জন্য রান্না করে রাখি, ভবিষ্যতে খাওয়ার জন্য প্যাকেজিং করে রাখি, বাসি খাবার খেয়ে থাকি প্রভৃতি। 

যেসব খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায় সেসব খাবার গুলোর সাথে পরিচিত হয়ে নেওয়া খুবই ভালো। তাই চলুন দেখে নিই যে, কোন কোন খাবার আমাদের শরীরের ক্যানসারের জীবানু সৃষ্টি করে থাকে। 
  • পক্রিয়াকরণ খাবার
  • চিনি জাতীয় খাবার
  • পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার
  • অ্যালকোহল জাতীয় খাবার
  • তেলে ভাজা খাবার
  • বার বার করে গরম করা বা রান্না করা খাবার
  • ক্যান্ডি চকলেট জাতীয় খাবার
  • আইসক্রিম জাতীয় খাবার
  • কোমল পানীয় বা এনার্জি ড্রিংক
  • চিপস জাতীয় খাবার প্রভৃতি।

ক্যানসার প্রতিরোধক খাবার

যেসকল খাবার ক্যানসারের জীবানুকে ধ্বংস করে শরীরের কোষ সমূহকে সুস্থ্য রাখতে দারুন ভূমিকা পালন করে। এগুলো হলো-
  • শিম ও ডাল জাতীয় খাবার খাওয়া 
  • হলুদ বা হলুদ জাতীয় খাবার খাওয়া 
  • বাদাম বা বাদাম জাতীয় খাবার
  • গাজর
  • ব্রোকলি 
  • বেরী জাতীয় খাবার
  • সাইট্রাস জাতীয় ফল
  • টমাটো খাওয়া 
  • অলিভ অয়েল খাওয়া
  • গোটা শস্য খাওয়া
  • গ্রীন টি খাওয়া
  • রসুন
  • চর্বিযুক্ত মাছ।  
এই সকল খাবার নিয়মিত খেতে পারলে ক্যানসার সহ যাবতীয় রোগ নিরাময় হবে। চলুন এগুলোর বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।

শিম ও ডাল জাতীয় খাবার খাওয়া 

 ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য এর মধ্যে শিম ও ডাল জাতীয় খাবারের কোন তুলনা নেই। শিম ও ডাল জাতীয় খাবার রয়েছে সবার শীর্ষে। কেননা এতে থাকা প্রোটিন, এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ক্ষতিকর রোগ জীবানু তথা ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার হাত থেকে কোষসমূহকে সুরক্ষিত রাখে। তাছাড়া শিম ও ডাল জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন সঠিক মাত্রায় স্থির থাকে ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধ করে।

ডাল ও শিম জাতীয় খাবারে থাকা প্রোটিন, আমাদের শরীরে উদ্ভিজ্জ্ব প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে, লাল মাংসের অভাববোধ কে রোধ করে এবং সর্বোপরি ক্যানসারের বিরুদ্ধে বড় ভূমিকা রাখে। শিম ও ডাল জাতীয় খাবার গুলো হলো- মটরশুঁটি, ছোলা,শিমের বীজ, অন্যান্ন ডাল ইত্যাদি। তাই আমাদের সকলের উচিৎ ভালো থাকার জন্য প্রতিদিন খাবারের মেনুতে এসব খাবার রাখা। 

হলুদ বা হলুদ জাতীয় খাবার খাওয়া 

ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য নিয়ে কিছু বলতে গেলে হলুদের কথা না বললে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আমরা রান্না করা খাবারের মাধ্যমে কম বেশী সবাই হলুদ খেয়ে থাকি। এটা যদিও ভালো তবে এর থেকে বেশী ভালো হবে যদি প্রদিতিন নিয়ম করে কাঁচা হলুদ খাওয়ার অভ্যাস করা হয়। হতে পারে সেইটা দিনের যেকোন সময়ে। আবার কাঁচা হলুদ দিয়ে রান্না করলেও তার গুণাগুণ ততটা নষ্ট হয় না। 

হলুদে প্রচুর পরিমাণে এন্টি-সেপ্টিক, কার্কিউমিন নামক বড় ও শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। হলুদে থাকা এই এন্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের কোষের ভেতরে বৃদ্ধি পেতে থাকা ক্যানসারের  সেলকে রুদ্ধ করে দেয়। যার ফলে ক্যানসারের বংশ বৃদ্ধি কমে যায়। আবার হলুদে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন, এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, ম্যাগনেসিাম, পটাসিয়াম, ফসফরাস ছাড়াও বিভিন্ন রকম উপকারী উপাদানসমূহ যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী।

বাদাম বা বাদাম জাতীয় খাবার 

অনেক ধরণের ক্যানসার রয়েছে। যার ভেতরে কোলন ক্যানসার অন্যতম। তাই নিয়মিত বাদাম খেলে বা খাবারের তালিকায় বাদাম রাখলে বাদামে থাকা পলিফেনোলিক নামক শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেনট এই কোলন ক্যানসারকে প্রতিরোধ করে। বাদাম কেবল কোলন ক্যানসারই না অন্য ধরণের ক্যানসারের বিরুদ্ধেও দারুন কাজ করে। তাছাড়া বাদাম খাওয়ার ফলে রক্ত  থেকে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায়। 

ক্যানসারের সেইলের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া ছাড়াও বাদাম হার্টের জন্য খুবই উপকারী। বাদাম খেলে হার্ট ভালো থাকে। তাছাড়া বাদাম খাওয়ার ফলে পিত্তথলি পাথরের দ্বারা আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচে। আবার দেখা যায় যে, ৫০-৭৫ গ্রাম বাদাম খেলে যেই পরিমাণ ক্যালরি প্রবেশ করে তা ক্যানসার প্রতিরোধে যথেষ্ঠ। এজন্য আমাদের প্রতিদিন একটা নিদ্দিষ্ট মাত্রায় বাদাম খাওয়া উচিৎ। 

গাজর 

গাজর হলো ক্যানসার প্রতিরোধের বড় প্রতিষেধক। গাজর খেলে গাজরে থাকা ফলকারিনোল উপাদান এবং ক্যারোটিনয়েড নামক উপাদান থাকার কারণে কোষের উপড় আধিপত্য বিস্তার করা ক্যানসার নামক আতঙ্ক আর দীর্ঘ স্থায়ী হতে পারে না। গাজর বেশ কয়েক ধরণের ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করতে সক্ষম। কোলন ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, ফুসফুসের ক্যানসার এবং পাকস্থলীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে দারুন কাজ করে। 


গাজর অতি দ্রুততার সাথে ক্যানসারের সেলের কার্যক্রমকে আটকে দেয় কারণ- গাজরে শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেনট, ফাইবার এবং পটাশিয়াম থাকে। এসব গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের কারণে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায় ফলে হৃদরোগ কমে, চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে, সূর্যের কবষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে, হজম শক্তি বর্ধিত করে পাকস্থলীকে রাখে সুস্থ্য এবং ওজন কমিয়ে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। 

ব্রোকলি 

ক্যানসারের কোষগুলি নষ্ট করে ফেলতে ব্রোকলি খুবই দায়িত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্রোকলি তে রয়েছে এ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি, এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং সালফোরাফেন যৌগ। যেগুলি খুবই শক্তিশালী। আর এসব গুরুত্বপূর্ণ  ভিটামিনের উপাদান এবং অতি শক্তিশালী যৌগ গুলি একত্রে মিলিত হয়ে শরীরের যেসব কোষে ক্যানসারের সেলগুলি অন্য সুস্থ্য কোষের কার্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করে সেই  সেল গুলোকে আর বর্ধিত হতে না দিয়ে তাদের ধ্বংস করে ফেলে।

ব্রোকলিতে থাকা ভিটামিন উপাদান গুলি মুখের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া ক্যানসার, কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, মূত্রনালির ক্যানসার এবং প্রোস্টেট ক্যানসারকে রুখে দিতে সক্ষম। আবার  শরীরে ঘুমন্ত এনজাইম  গুলিকে জাগিয়ে তুলে তাদেরকে সক্রিয় করে এবং শরীরে জমে থাকা যেসব ক্ষতিকর পদার্থ ক্যানসার তৈরী করে তাদেরকে দ্রুত বের করে দেয় এর ভেতরে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি। তাছাড়া শরীর সুস্থ্য রাখতেও এর ভূমিকা অনেক।

বেরি জাতীয় খাবার

ক্যানসার প্রতিরোধে বেরি জাতীয় খাবার অনেক অগুরুত্বপূর্ণ। বেরিতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক বিভিন্ন ভিটামিন যেমন- এলাজিক নামক এক ধরনের শক্তিশালী এসিড, রয়েছে-এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আর রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। বেরি জাতীয় খাবারে অবস্থান করা ভিটামিনের উপাদান গুলো ক্যানসারের যেই সেলগুলো অন্য সুস্থ্য কোষ গুলির কার্যক্রমে বাধা দেয়, সেসব কোকে নষ্ট করে ফেলে। 

সাইট্রাস জাতীয় ফল 

সাইট্রাস বা লেবু জাতীয় ফল ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য বড় একটা হাদিয়ার। সাইট্রাস জাতীয় ফলের সব অংশই ভিটামিন সি দিয়ে পরিপূর্ণ বলে তার সবকিছুই অতি সুন্দরভাবে খাওয়া যায়। সাইট্রাস জাতীয় ফল গুলো হলো- লেবু, বাতাবী, কমলা, মাল্টা প্রভৃতি। এসব ফলে ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যারোটিনয়েড নামক খুবই শক্তিশালী এন্টিঅক্সিডেনট বিদ্যমান। যা ক্যানসারের সেলকে বৃদ্ধি হওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে দেয়। 

সাইট্রাস জাতীয় ফলগুলো গলার ক্যানসার, স্তনের ক্যানসার, খাদ্যনালীর ক্যানসার, মুখের ক্যানসার এবং পাকস্থলীর  ক্যানসার রোধের  বড় প্রতিরোধক হিসেবে নিতে হলে এসব ফলকে যথাযথ ভাবে সেবন করা দরকার। যেইভাবে এই ফলগুলো খাবেন তার উপায় হলো- 
  • এই ফলগুলোকে সতেজ বা টাটকা খেতে পারল সবথেকে ভালো
  • ফলের প্রতিটি অংশই খাবারের যোগ্য, তাই এসব ফলের সবকিছুই খাওয়া উচিৎ।
  • জুস করে করে খাওয়া যায় ইত্যাদি। 

টমাটো খাওয়া

টমাটো ক্যানসার প্রতিরোধের জন্য মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার। টমাটো ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি দ্বারা পরিপূর্ণ একটি ভেষজ ও সবজি। এটা এমন এক ধরনের সবজি যা প্রতিটা খাবারের সাথে খুব সহজেই মিশে যায় এবং খাবারকে সুস্বাদু হিসেবে প্রস্তুত করে। এতে থাকা পিকোম্যারিক ও ক্লোরোনিক নামক শক্তিশালী এন্টি-অক্সিডেন্ট খুব সহজেই ক্যানসার কোষ গুলোকে অক্ষম করে দেয় এবং শরীর থেকে বিতাড়িত করে।

অলিভ অয়েল খাওয়া 

জলপাই যেমন অনন্য গুণ সম্পন্ন একটি ফল, তেমনি জলপাই এর তেলেও রয়েছে নানান রকমের পুষ্টি উপাদান। জলপাই এর তেল বা অলিভ অয়েলে রয়েছে ওলিওক্যানথল নামক শক্তিশালী এক যৌগ, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে দ্রুত এবং শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবথেকে বেশী কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। আর তাই অলিভ অয়েল হলো ক্যানসারের সবথেকে বড় এবং প্রধান শত্রু। 

অলিভ অয়েলে মনো-আনস্যাচুরেটেড নামক এক ধরণের ফ্যাট থাকে, পলিফেনল থাকে, ভিটামিন ই থাকে এবং এন্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের কোষে বেড়ে ওঠা ক্যানসারের সেলগুলোকে রুদ্ধ করে। তাছাড়া অলিভ অয়েল ব্রেস্ট ক্যানসার, পাকস্থলির ক্যানসারকে রোধ করে দেয়। 

গোটা শস্য খাওয়া 

গোটা শস্য শরীরের জন্য যেমন খুবই ভালো, তেমনি ক্যানসার প্রতিরোধেও খুবই উপকারী। গোটা শস্যের ভেতরে ফাইবার, এন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, মিনারেল প্রভৃতি থাকে যেসব ক্যানসার বিরোধী ভূমিকা পালন করে থাকে। এসব গোটা শস্যের মধ্যে রয়েছে - গম, ওটস, বাদামী চাল এবং কুইনো। 

গ্রীণ টি

গ্রীণ টি হলো এক ধরণের চা। যেইটা পরিশোধিত করার আগেই বাজারে ছাড়া হয় বা প্রস্তুত করা হয়। গ্রীণ টি সাধারণত ক্যামেলিয়া সিনেনসিস নামক এক প্রকার গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। এতে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট, ক্যাফেইন এবং পলিফেনল থাকে। যা সম্পূর্ণ ভাবে ক্যানসারের বিরুদ্ধে কাজ করতে না পারলেও ক্যানসারের সেলগুলোর কাজকে অনেকটা থামিয়ে দিতে সাহায্য করে। 

রসুন 

রসুন ক্যানসার প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চর্বিযুক্ত মাছ

ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য এর মাঝে চর্বিযুক্ত মাছ অন্যতম ভূমিকা পালন করে। ক্যানসার প্রতিরোধে  চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুৃষ্টি উপাদান।

শেষ কথা

ক্যানসার প্রতিরোধে ১৩ খাদ্য এর সম্পর্কে আমরা সর্বশেষ কথা জানবো। ক্যানসার যেহেতু মারাত্মক জটিল একটা রোগ এবং যেটা সমস্ত পৃথিবীতে খুবই বড় আতঙ্ক হিসেবে  ছড়িয়ে পড়েছে। সেইহেতু এই রোগ প্রতিরোধ করার জন্য প্রথম থেকেই প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তভাবে গড়ে তুলা উচিৎ। যদি কেউ প্রথম থেকেই চান যে, ক্যানসার যেন তার শরীরে আক্রমণ করতে না পারে, তাহলে আমাদের পোস্টে বর্ণিত বিষয়াবলি গুলি মেনে চলতে পারেন।

যদি কেউ নিয়ম করে উক্ত খাবার গুলি খেয়ে থাকেন, তাহলে তার ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবে বলে আমার মনে হয়না। তবে সবথেকে ভালো হবে যে,আপনার নিকটবর্তী ডাক্তারের পরামর্শে চলতে পারলে আরও বেশী ভালো হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url