সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় গুলো জানুন

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় গুলো হতে হবে খুবই শক্তিশালী এবং গোপনীয়। আপনার নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা, আপনার ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল সিস্টেমের নিারাপত্তা জোড়দার



 করা হলো সবথেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। এসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে আপনাকে না জানিয়ে, আপনার নিকট থেকে এসব তথ্য, হাতিয়ে নেওয়া, চুরি করা এবং হ্যাক করে নেওয়াই হলো সাইবার নিরাপত্তা ঝুুঁকি। 

সুচিপত্রঃ সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয়

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয়

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে আজ আমরা যৎ সামান্ন জানানোর জন্য চেষ্টা করবো। সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাংলাদেশে ততটা জোড়ালো নয়। কারণ বাংলাদেশ প্রযুক্তিগত দিক থেকে পৃথিবীর অন্য দেশের তুলনায় এখনও অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের নিজেস্ব প্রযুক্তি না থাকাটা এই দেশের জনগণের জন্য সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জরুরী হলেও সেইটা এখনও যে কতটা হুমকি স্বরুপ সেটা হাড়ে হাড়ে টেড় পাওয়া যায় যখন অন্য দেশের দিকে তাকাই। 

সাইবার নিরাপত্তাকে কে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য প্রযুক্তির উন্নয়ন সর্বাগ্রে প্রয়োজন। হতে পারে সেইটা দেশিয় প্রযুক্তিতে বা অন্য দেশের কাছে থেকে সংগ্রহ করে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে দেশে যেসকল সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করা হয় তার বেশীরভাগই অচল বা পুরানো, সাইবার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত অর্থ ব্যায় হয়না এবং অদক্ষ শ্রমিক  তাই সাইবার হামলা বা হ্যাকিং এর মতো ঘটনা ঘটে। 

সাইবার ও নেটওয়ার্ক কি

সাইবার হলো একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এটি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একটি কম্পিউটার থেকে আরেকটি কম্পিউটার অথবা একটি মোবাইল ডিভাইস থেকে অন্য কোন মোবাইল ডিভাইসে বা পৃথিবীর এক প্রান্তকে অন্য প্রান্তের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে যেই মাধ্যমটি ব্যবহার করা হয় সেইটাই হলো নেটওয়ার্ক। আর এই নেটওয়ার্কের আওতায় যেসব মাধ্যম দিয়ে কর্মকান্ড করা হয় তাকে বলা হয় সাইবার। যার ভেতরে অন্তর্ভূক্ত থাকে নানান ধরণের কোম্পানী বা অঙ্গ-সংগঠক। 

সাইবার সাধারণত একটি নেটওয়ার্ক দিয়ে আবৃত থাকে। যেই নেটওয়ার্ক দিয়ে আবৃত থাকে তাকে বলা হয় ইন্টারনেট। ইন্টারনেট না থাকলে সাইবার কল্পনা করাই যায় না। চলুন সহজেই দেখে নিই সাইবারের কোথায় কি থাকে এবং কি কি নিয়ে এটা গঠিত হয়। 
  • সাইবারঃ কম্পিউটার এর নেটওয়ার্ক।
  • তথ্য সমূহ আদান-প্রদানের উপায়ান্তরঃ এটি একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক হওয়ায় এর প্রধান উপাদান হলো ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্য আদান প্রদান করা সম্ভব না।
  • তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমঃ যাবতীয় তথ্য সমূহ আদান-প্রদানের জন্য কোন একটা মাধ্যম প্রয়োজন। যেই মাধমে বা যোখানে তথ্যাবলি সংরক্ষণ করে রাখা হয় সেইগুলি একটির থেকে আরেকটি সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের প্রত্যেকের তথ্য উপস্থাপনের উপায়ও আলাদা হয়ে থাকে।
  • তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বা এখানে সংরক্ষিত তথ্যাবলি যেখানে রাখা থাকে এমন এমন কিছু অঙ্গ-সংগঠক হলো- ই-মেইল, ওয়েবসাইট, ফেসবুক,টুইটার প্রভৃতি। 
  • তথ্য আদান-প্রদানের ডিভাইসঃ ল্যাপটপ, ডেক্সটপ, ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন প্রভৃতির মাধ্যমে খুব সহজেই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তথ্যাবলি গুলি আদান-প্রদান করা যায়। 

কিভাবে সাইবার নিরাপত্তা বাড়াবেন

সাইবার নিরাপত্তা কি এবং তার গুরুত্ব কি এই বিষয়টা নিয়ে জল ঘোলা করার মতো কিছুই নেই। এটা হলো খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। সাইবার নিরাপত্তা বলতে কি বোঝায় তা আমরা আজ আলোচনা করবো-
  • আপনার ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, ট্যাব অথবা অন্য কোন ডিভাইস থেকে আপনার লুকিয়ে রাখা কোন তথ্য, পার্সোনাল ডেটা, ব্যবসায়িক ডেটা, আর্থিক লেনদেনের হিসাবপত্রের ডেটা প্রভৃতি যখন কেউ চুরি করে নেয় তখন সেইটা সাইবার হামলা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তাই এটা যাতে না ঘটে সেই দিকে নজর দিতে হবে।
  •  আমরা আমাদের কম্পিউটার, স্মার্টফোন, বা যেকোন ডিভাইস ব্যবহার করার সময় যেসব ফিচার গুলো ব্যবহার করি সেগুলো হলো সফটওয়ার। আমাদের ডিভাইসে ব্যবহৃত সমস্ত  অ্যাপ কিন্তু ভালো নয়। ভালোর পাশাপাশি কিছু অ্যাপ আছে যেগুলো আমাদের ডিভাইস থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়। এই বিষয়ে আরও বেশী সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তাহলে আর তথ্য চুরি যাওয়ার ভয় থাকবে না।
  •  আপনার বা আপনাদের ডিভাইসের অ্যাক্সেস কাকে এবং কিভাবে  দিবেন সেইটা আপনার ব্যাপার। সরাসরি আপনার ডিভাইসে আপনার অনুমোতি ব্যাতিত কেউ প্রবেশ করে মূল্যবান কিছু হাতিয়ে নিতে না পারে তার জন্য শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করা অতি আবশ্যক।
সাইবার নিরাপত্তায় মূল্যবান কিছু নির্দেশনা যেগুলোর মাধ্যমে সাইবার হামলা থেকে অনেকাংশে বাঁচাতে সাহায্য করে বা সাইবার নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করে।
  • ডিভাইসের সফটওয়্যার সব সময় আপডেট রাখা
  • সমস্ত কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিকিউরিটির আওতায় রাখা
  • যাবতীয় অ্যাপ্লিকেশন গুলি সিকিউর রাখা
  • টু ফ্যাক্টর ওয়েতে পাসওয়ার্ড সিকিউর করা
  • ই-মেইল লিংক যাচাই করা
  • নিয়মিত ডেটার ব্যাকআপ রাখা
  • এন্ডপয়েন্টের সিকিউরিটি নিশ্চিত করা 
  • সমস্ত ইনফরমেশন গুলো সিকিউটিতে রাখা
  • ক্লাউড সিকিউরিটি নিশ্চিত করা ইত্যাদি।
উপরিউক্ত বিষয়ের প্রতি নজর দিলে বা সিকিউরিটি প্রদান করলে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করা সম্ভব।

কোন কোন লিংকের মাধ্যমে সাইবার হামলা করা হয় 

নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন অথবা যেকোন ডিভাইস থেকে উক্ত ডিভাইসের মালিকের অনুমোতি না নিয়ে বা অবৈধ উপায়ে পার্সোনাল বা যে কোন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া অথবা চুরি করে নেওয়াই হলো সাইবার হামলা। বিভিন্নভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্যাবলি চুরি বা হ্যাক করে নিতে পারে। কোন গোষ্ঠী কি কি উপায়ে সাইবার হামলা করতে পারে চলুন সেই সম্পর্কে জেনে নিই। 
  • ড্রাইভ বাই ডাউনলোড লিংকে প্রবেশ করলে হামলার ঝুঁকি থাকে
  • ক্রস সাইট স্ক্রীপ্টিং নামে কোন লিংকে প্রবেশ করলে
  • এস কিউ এল ইনজেকশন লিংকে প্রবেশ করলে
  • ম্যালওয়্যার আছে এমন লিংকে প্রবেশ করলে 
  • সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং লিংকে প্রবেশ করলে
  • ফিশিং লিংকে অনুপ্রবেশে প্রভৃতি।

যেভাবে আপনার কাছে এসব লিংকের মেসেজ আসবে

এমন ধরণের লোকজন রয়েছে যারা লোভের বশে বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন লিংকে প্রবেশ করে থাকে, সাত-পাঁচ কোন কিছু না ভেবে লোভের কারণে বা অকারণে ওইসব ব্যক্তিরা এই লিংকে প্রবেশ করলে হ্যাকার রা তাদের বিভিন্ন ধরণের এক্সেস পেয়ে যায় এবং তথ্য চুরি করে থাকে। চলুন দেখে নিই যে কিভাবে হ্যাকাররা সাধারণ মানুষের কাছে মেসেজ বা লিংক দিয়ে প্রলোভিত করে-
  • নিকটবর্তী বা দূরের পরিচিত কোন মানুষ সেজে 
  • ই-মেইলের মাধ্যমে
  • ফেসবুকের মাধ্যমে
  • হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ করে
  • টুইটারের মাধ্যমে
  • বিভিন্ন স্থানে অ্যাড দেখার মাধ্যমে
  • বিশ্বস্ত ওয়েব সাইটের নামকে বা লোগো ব্যবহার করে অথবা তাদেরকে নকল করে
  • নতুন কোন ওয়েব সাইটের বিশ্বাস অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রভৃতি।

এসব হ্যাকার দের হাত থেকে বাঁচতে আমাদেরকে যা কিছু করতে হবে তা হলো- 
  • ডিভাইসে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বসাতে হবে
  • একাধিক পাসওয়ার্ড অথেন্টিকেশন রাখতে হবে
  • সফটওয়ার আপডেট রাখুন
  • যেকোন লিংকে প্রবেশের পূর্বে সতর্ক হোন
  • অপরিচিত কারও কাছে থেকে কোন মেসেজ আসলে সতর্ক থাকুন, ইত্যাদি।

সাইবার হামলার ধরণ সমূহ

বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সবথেকে বেশী হুমকীর মুখে রয়েছে পৃথিবীর অনুন্নত দেশ এবং উন্নয়নশীল দেশ গুলো। যার ভেতরে বাংলাদেশও রয়েছে এই ঝুঁকিতে। হ্যাকার গোষ্ঠী বা সাইবার হামলাকারীরা সব সময় দুর্বল প্রযুক্তির দেশ বা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করে যাতে তাদের কার্য অত্যন্ত সহজ হয়। তাই এখন আমরা জানবো যে কোন কোন উপায়ে হ্যাকাররা খুব সহজেই হ্যাক বা সাইবার হামলা করে থাকে।
  • ম্যালওয়্যার
  • ফিশিং
  • রেনসমওয়্যার
  • ডিসট্রিবিউটেড এন্ড ডিনায়াল অফ সার্ভিসেস
  • হ্যাকিং
  • সাইবার বুলিং
  • ডেটা ব্রিচ
  • সাইবার চাঁদাবাজ
  • অনলাইন ফ্রড
  • আইডেন্টি চুরি 
  • সফটওয়্যার পাইরেসি
  • প্লেজিয়ারিজম করে
  • লিকেজ ইনফরমেশন
  • ওয়েব বেজড
এসব ছাড়াও আরও রয়েছে যেগুলো দিয়ে সাইবার হামলা করা সহজ হয়ে থাকে।

ম্যালওয়্যার 

ম্যালওয়্যার হলো ম্যালিশাস সফটওয়্যার। স্বাভাবিকভাবে বলতে গেলে ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ভালো সফটওয়্যার না। এটা গোয়েন্দার মতো কাজ করে ঠিকই, কিন্তু সেইটার থেকে ক্ষতির পরিমাণটাই বেশী পরিলক্ষিত হয়। ম্যালওয়্যার ব্যবাহার করা হয় অন্য কারও কম্পিউটার  নেটওয়ার্ক থেকে বা তার স্মার্টফোন থেকে ডেটা বা তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার তাগিদে। তাছাড়া ম্যালওয়্যার নিত্য দিনের কর্মকান্ডকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেয় না। 

আমরা সকলেই জানি যে, ম্যালওয়্যার একটি ক্ষতিকর সফটওয়্যার তাই এর লিংকে প্রবেশ করা মাত্রই সে আপনার যাবতীয় তথ্যবলী তৃতীয় কোন ব্যাক্তির সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে সাহায্য করে। যেগুলো হতে পারে আপনার পার্সোনাল তথ্য, ব্যাংক একাউন্টের লেনদেনের তথ্য, ব্যবসায়িক তথ্য, ওয়েব সাইটের তথ্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য,গুগল একাউন্ট প্রভৃতি। 

ম্যালওয়্যার এর পক্ষ নিয়ে যেসমস্ত ভাইরাস বা ক্ষতিকর সিস্টেম কোন ব্যক্তির গোপন তথ্যগুলো সামনে তুলে নিয়ে আসতে সাহায্য করে-
  • ওয়ার্ম
  • বিভিন্ন ভাইরাস
  • অ্যাডওয়্যার
  • স্পাইওয়্যার
  • রেনসমওয়্যার এবং
  • ট্রোজান প্রভৃতি 

ফিশিং

যতরকমের সাইবার অপরাধ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম প্রধান অপরাধ হলো ফিশিং। মাছকে যেমন টোপ দিয়ে ধরা হয়, তেমনি হ্যাকররা মাছের টোপের মতো প্রলোভিত করে থাকে। যেন যে কেউ তাদের প্রলোভনের লোভে পড়ে তাদের কাছে ধরা দেয়। এজন্য তারা আকর্ষণীয় অফার, আকর্ষণীয় অ্যাড, ফোন কল, মেসেজ, হোয়াটস অ্যাপ লিংক, মেসেজের মাধ্যমে লিংক, ই-মেইলে লিংক দিয়ে থাকে।


এছাড়া হ্যাকাররা আপনার পরিচিত ও বিশ্বস্ত কোন ব্যক্তি সেজে প্রলোভন দেখাবে, বিশ্বস্ত কোন ওয়েব সাইটের লিংকের ন্যায় লিংকে প্রবেশ করতে উদ্যত করবে প্রভৃতি। হ্যাকারদের দেওয়া এসব লিংকে প্রবেশ করলে আপনাকে তাদের ওয়েব সাইটে নিয়ে যাবে এবং সেখানে লগ ইন করলেই আপনার আইডি, পাসওয়ার্ড, ডেবিট কার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার, ব্যাংকের যাবতীয় তথ্য ইত্যাদি মূল্যবান জিনিস তারা অনায়াসেই হাতিয়ে নিতে সক্ষম হবে। 

রেনসমওয়্যার 

রেনসমওয়্যার হলো ম্যালওয়্যার এর একটি অঙ্গ সম। কেননা রেনসমওয়্যার ম্যালওয়্যার এর মতোই ব্যক্তির যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সাহায্য করে। রেনসমওয়্যার এর লিংকে প্রবেশ করলে আপনি যেই ডিভাইস থেকে প্রবেশ করবেন তার সম্পূ্র্ণ এক্সেস বা তার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যাবে। তাই ফলে আপনি আপনার ডিভাইস সহ, বিভিন্ন ওয়েবের এক্সেসও হারাবেন।

এমতাবস্থায় হ্যাকাররা আপনাকে বার বার করে মেসেজ দিবে অথবা আপনাকে শো করানো হবে যে, আপনার এক্সেস তারা নিয়ে নিয়েছে। এখন আপনি যদি আপনার এক্সেস ফেরত চান তাহলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ তাদের ঠিকানায় প্রেরণ করতে হবে।

ডিসট্রিবিউটেড এন্ড ডিনায়াল অব সার্ভিসেস

সাইবার হামলা হওয়ার জন্য এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত মারাত্মক একটি পদ্ধতি। যেটা অন্যসব হামলার তুলনায় অনেক বেশী ক্ষতিকর হয়ে থাকে। যারা হ্যাকার, তারা প্রতিটি সার্ভারে ট্রাফিক পাঠিয়ে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে থাকে। কিন্তু তারা যদি ঠিক করে থাকে যে নির্দ্দিষ্ট কোন সার্ভারে তারা এ্যাটাক করবে তাহলে সেই সার্ভারে বেশী পরিমাণ ট্রাফিক প্রেরণ করে সার্ভারের কর্মক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে থাকে।

সাইবার হামলার এই পদ্ধতিকে দুটিভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। যথা- 
  •  ডিনায়াল অব সার্বিস এবং
  • ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস 
ডিনায়াল অব সার্ভিসঃ
একটি নেটওয়ার্ক বা একটি সার্ভারের আন্ডারে যখন অনেক ব্যবহারকারী থাকে তখন সেখানে বিভিন্ন ওয়েবসাইট, বিভিন্ন মাধ্যম, বিভিন্ন এজেন্ট প্রভৃতিতে লেনদেনের ব্যাপার ঘটে। এসব সার্ভার হ্যাকাররা ভিজিট করে এবং সার্ভার ডাউন করার জন্য তারা চেষ্টা করে। এর জন্য তারা যেই নেটওয়ার্ক বা সার্ভারকে  তারা হ্যাক করবে তার পূর্বে সেই হ্যাকাররা প্রথমে দেখে নেয় যে, ওই সার্ভার কি পরিমাণ লোড নিতে সক্ষম। 

তারপরে এরা টার্গেট করা নেটওয়ার্কে বা সার্ভারে ট্রাফিক পাঠাতে থাকে। যেন সেই ট্রাফিকের কারণে উক্ত সার্ভার বা নেটওয়ার্কের স্পীড কমে যায়। যার ফলে সেই নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা গ্রাহকদেরও স্পীড কমে যায় এবং আস্তে আস্তে সেই নেটওয়ার্ক ডাউন হতে থাকে। এর কারণে নেটওয়ার্কের বৈধ ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন ধরণের এক্সেস সম্পূর্ণ স্থগিত করে রাখা হয়। যার দরুন আর কেউ সেখান থেকে কোন তথ্যই আর খুঁজে পায় না।

ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিসঃ
ডিনায়াল অব সার্ভিসে আমরা দেখি যে হ্যাকাররা কেবল একটি মাত্র সার্ভার বা নেটওয়ার্ক কেই হ্যাক করতে পারে। কিন্তু ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস তার থেকেও আরও বেশী জোড়ালো এবং বেশী শক্তিশালী। ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস এই পদ্ধতিতে এক বা একাধিক সার্ভারকে একসাথে ডাউন করে দেওয়া সম্ভব হয়। এর শক্তির প্রভাব এত যে, এটা ব্যান্ডউইথ কে একেবারে শেষ করে দিতে সক্ষম।

হ্যাকাররা ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস এর মাধ্যমে কয়েকটি সার্ভারে প্রচুর পরিমাণে "আই সি এম পি- ফ্লাডস", এবং "ইউ ডি পি- ফ্লাডস" সহ বিভিন্ন ট্রাফিক পাঠাতে থাকে। এই পরিমাণ ট্রাফিক প্রেরণ করার ফলে সেইসব সার্ভারে বেশী পরিমাণ লোড পড়ে যায়। তাই এই সার্ভার গুলি খুব সাধারণ ভাবে এই ট্রাফিককে এড়াতে পারে না। ফলে বৈধ ব্যবহারকারীরা তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম করতে বাধা প্রাপ্ত হয়। এর পাশাপাশি এসব সার্ভার কর্মক্ষম হয়ে পড়ে।

প্রতিকার 

যেসমস্ত কাজ করলে আমরা সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে পারবো, চলুন এখন আমরা সেই সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নিই। 
  • সন্দেহজনক লিংক গুলোকে সর্বাত্মকভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • কঠিন বা  শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • টু ফ্যাক্টর ওয়ে তে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
  • নিয়মিত সমস্ত সফটওয়্যার গুলি আপডেট করা।
  • প্রয়োজনীয় ডাটা গুলি এনক্রিপ্ট করে রাখা।
  • প্রয়োজনীয় ডাটা গুলির ব্যাকআপ রাখা।
  • ফায়ার ওয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে। 
  • ডিভাইস গুলিকে এন্টিভাইরাস এর আওতায় রাখতে হবে।
  • সমস্যা গুলি চিহ্নিত করে তার সমাধান করা উচিৎ।

শেষকথা 

সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় করণীয় সম্পর্কে আমরা যেসমস্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম সেই সমস্ত বিষয় মেনে চললে আশা করা যায় যে সাইবার হামলার হাত থেকে বাঁচা সম্ভব। সেইজন্য আমাদের সকলের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে সার্ভারের প্রতি অর্থ ব্যায় করা, প্রযুক্তির উন্নয়ণ করা প্রভৃতি। এগুলি করলে সার্ভার বা নেটওয়ার্ক সাইবার হামলামুক্ত থাকবে। আবার সাধারণ ব্যবহার কারীদের জন্য -
  • সফটওয়্যার আপডেট রাখা
  • শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং
  • সফটওয়্যার আপডেট রাখা 
ইত্যাদি করলে ব্যাক্তিগত ভাবে সাইবার হামলা থেকে বাঁচা যায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url