চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা কতটা উপকারী জেনে নিন
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা অনন্য এক ভূমিকা পালন করে। কালোজিরাতে ও মেথি খাওয়ার ফলে এদের ভেতরে অবস্থান করা বিভিন্ন উপাদান যেমন শরীরের হাজারও রোগের বিরুদ্ধে
খুবই দ্রুততার সাথে কাজ করে, তেমনি বাহ্যিকভাবে মেথি এবং কালোজিরার পেষ্ট বা এই দুটোর থেকে প্রাপ্ত তেল মাথায় ব্যবহার করার ফলে চুল পড়া রোধ, খুকশি দূর করা সহ প্রভৃতি জটিল সমস্যার সমাধান করে থাকে।
সূচিপত্রঃ চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা
- চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা যে কতটা উপকারী উপাদান সেই সম্পর্কে আজ
আপনাদের বিস্তারিত জানানোর জন্য চেষ্টা করবো। বর্তমান সময়ে পরিচিত এবং বড় কিছু সমস্যা হলো চুল ঝড়ে পড়ে যাওয়া, নতুন চুল না গজানো এবং মাথায় প্রচুর পরিমাণে খুকশি হওয়া প্রভৃতি। এসব সমস্যা নিয়ে অখুশি অনেকেই। এই সকল সমস্যার কারণে অকালে মাথায় টাক পড়ে যায়। আর এইটা যেকাউকে মানসিকভাবে অনেক দুর্বল করে দেয়।
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরার গুণের কোন শেষ নেই। আমাদের মাথার চুলে বা স্কাল্পে যখন প্রোটিন ও পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কমে যায় তখন মাথা থেকে চুল ঝরে পড়ে। মেথি ও কালোজিরা স্কাল্পে এবং চুলে প্রোটিন আর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের যোগান দিয়ে চুল ঝড়ে পড়া কমায়, নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে, মাথায় চুলকে ঘন করে, অতিরিক্ত খুকশির পরিমাণ কমিয়ে শূন্যের ঘরে নিয়ে আসে।
কালোজিরা ও মেথি চুল পড়া রোধ করার পাশাপাশি চুলকে দীর্ঘস্থায়ী করে, চুলকে লম্বা হতে বড় ভূমিকা পালন করে, চুলকে ঘন কালো হতে সাহায্য করে, নিষ্প্রাণ চুলে প্রাঞ্জলতা ফিরিয়ে আনে। এর ফলে চুল আরও বেশী ঝকঝকে হয়, চুল নরম সুন্দর হয় এবং চুল আগের তুলনায় অনেক বেশী মৃসন হয়। আবার মেথি ও কালোজিরা তে থাকা পুষ্টি উপাদান গুলি কেবল মাত্র বাহ্যিকভাবেই নয় বরং এগুলো সেবনের ফলে শরীরে জমে থাকা অনেক জীবানুও ধ্বংস হয়ে যায়।
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ মেথি ও কালোজিরাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, এন্টি-অক্সিডেনট ও প্রেটিন থাকে। তাই মেথি ও কালোজিরা ব্যবহারের ফলে ফলিকল থাকে সুস্থ্য এবং চুলের গোড়া হয় দারুন মজবুত। এছাড়াও এতে থাকে এন্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও এন্টি-ফাঙ্গাল যা আমাদের মাথার ত্বককে বাহিরের রোগ-জীবানুর বিভিন্ন সংক্রমণের থেকে আলাদা সুরক্ষা বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে।
মেথি ও কালোজিরার পরিচয়
মেথি ও কালোজিরা আমাদের শরীরের জন্য কতটা উপকারী তা সুবিস্তারিতভাবে আজ বর্ণনা করবো।
মেথিঃ
মেথি হলো এক ধরণের ভেষজ। মেথি গাছ থেকে যা কিছু পাওয়া যায় তার সবটুকুই রান্না করে বা ঔষধি হিসেবে খাওয়া যায়। যেমন - আমাদের রান্নার সময় মেথির ফলকে মসলা হিসেবে রান্না করে খেতে পারি, মেথির পাতা খাওয়া একটু কষ্টকর কেননা এর পাতা খুবই তিতা জাতীয় তবে এর পাতা শাক হিসেবে খেলে অনেক উপকার পাওয়া যায়। কারণ মেথির পাতা পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ। এছাড়া মেথির বীজে ঔষধি গুণ থাকে বলে তার চাহিদাও ব্যাপক।
মেথির বীজে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণ থাকায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এটি বহুল ব্যবহৃত হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও মেথির ভূমিকা অনস্বীকার্য। আবার আমাদের মধ্যে যাদের খাবার হজম কম হয় তাদের জন্য মেথি বীজ যাদুকরী কাজ করে থাকে এবং মেথি বীজ চুল পড়া রোধ করে। বিভিন্ন কারণে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে সেইটাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
মেথি বীজ এত উপকারী কারণ- মেথি বীজে থাকে আয়রন, খ পরিমাণে প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, কিছুটা ম্যাঙ্গানিজ ক্যালসিয়াম প্রভৃতি খনিজ পদার্থ দিয়ে পূর্ণ থাকে। তাছাড়া মেথি প্রোটিনের অভাবকে পূর্ণ করে, এমাইনো এসিডের অভাবকে পূর্ণ করে। মেথিতে ভিটামিন এ, ভিটামিন কে এবং ভিটামিন সি থাকে। মেথিতে থাকে নিকোটিনিক, ডায়োসজেনিন, ফ্লাভোনয়েডস, অ্যালকালয়ডস এবং স্যাপোনিন এবং অনেক প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে।
কালোজিরাঃ
কালোজিরা হলো এক ধরনের ভেষজ গাছ। এটির পুষ্টিগুণ এত পরিমাণ যে সেইটা বলে শেষ করা যায় না। কালোজিরা কে রান্নার কাজে সব সময় ব্যবহার করা যায়। এটি একটি মৌসুমী উদ্ভিদ। যা বছরের নিদ্দিষ্ট একটা সময়ে বীজ বোপন করে এর চাষাবাদ করতে হয়। কালোজিরা পুষ্টি উপাদানে এবং ঔষধিগুণে পরিপূর্ণ বলে এটির চাহিদা সবার শীর্ষে। কালোজিরা খাওয়ার দরুন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ও সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে।
কালোজিরা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় সবথেকে বেশী ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তাছাড়া কবিরাজি চিকিৎসাতেও এটির বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। কালোজিরার বীজকে মৈথুন করে তার থেকে তেল বের করে আনা হয়। কালোজিরা থেকে বের করা তেলের প্রচুর গুণাবলী রয়েছে। যার ভেতরে প্রধান হলো চুল পড়ে যাওয়া, মাথার খুকশি দূর করা প্রভৃতি। চুল পড়ে যাওয়া ও মাথার খুকশি দূর করতে কালোজিরার তেলের কোন বিকল্প নেই।
কালোজিরাতে যেসমস্ত উপাদান সবথেকে বেশী পরিলক্ষিত হয় সেইগুলো হলো- ক্যানসার প্রতিরোধক কেরটিন, রয়েছে ফসফরাস, এন্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন, লৌহ, খনিজ উপাদান প্রভৃতি রয়েছে। কালোজিরা রোগ-প্রতিরোধ করতে বেশী সক্রিয় থাকে এবং এসিডিটির বিরুদ্ধে বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলে বা এসিডিটি কে নির্মূল করে। এনব ছাড়াও কালোজিরাতে এনজাইম, হরমোন, কপার, ফোলাসিন, নাইজেলোন, থাইমোকিনোন প্রভৃতি থাকে।
মেথি ও কালেজিরার উপকারিতা
মেথি ও কালোজিরা উভয়ই ভেষজ বীজ। এদের উপকারিতা রয়েছে অনেক। তাই চলুন আমরা মেথি ও কালোজিরার বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে আজ জেনে নিব।
চুল পড়া রোধ করতে
চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা আমাদের জন্য সবথেকে ভালো এবং নিরাপদ উপাদান হিসেবে বিবেচিত। আমাদের শরীরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির অন্যতম একটা উপাদান হলো চুল। চুল ছোট বা বড় বিভিন্ন মাপে এক একজনকে সুন্দর দেখায়। কাউকে বড় চুলে ভালো দেখায় আবার কাউকে ছোট চুলে। আবার চুল কম থাকলে সৌন্দর্যটা একটু ম্লান হয়ে যায় যা টেনশনের বড় একটা কারণ। আবার যাদের মাথায় টাক পড়ে গেছে তাদের কথা আর না বলি। তাদের কাছে এটা একটা হতাশা ছাড়া আর কিছুই না।
চুল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন বা অনেক দিন থেকে এই সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এমন লোকের সংখ্যাও কিন্তু নেহাৎ কম নয়! চুল মাথায় থাকবে কি থাকবে না সেইটা নির্ভর করে অনেকটা আপনার উপড়। কেননা আপনি যদি আপনার চুলকে যত্ন না করেন তাহলে সেই চুলের যে বারোটা বাজবে এই বিষয়ে আপনি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। সেই জন্য আমারা যেমন করে আমাদের ত্বকের যত্ন নিয়ে থাকি চুলেরও সেই রকম যত্ন নেওয়া উচিৎ।
চুল ঝরে পড়ে যাওয়া, মাঝখান থেকে চুল ভেঙ্গে পড়া, চুল নিষ্প্রাণ হয়ে যাওয়া, নতুন করে আর চুল না গাজানো, মাথা ভর্তি খুকশি, খুকশি দূর না হওয়া প্রভৃতি নিয়ে আমরা অনেক চিন্তা করে থাকি। এই সমস্যার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বা স্থায়ী কোন সমাধানের জন্য অনেক ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে,বাজারের বিভিন্ন তেল বা প্রসাধনী মেখেও যখন কোন কাজ হয়না। অথবা হেকিম-কবিরাজদের কাছে থেকে চিকিৎসা নিয়েও সফলতার মুখ দর্শন হয়না।
এসব ব্যবহারের পরেও যখন চুল পড়া, চুল ঘন না হওয়া প্রভৃতিতে সঠিক ফলাফল না পেয়ে হতাশা ঘিরে ধরে, তখন এই সমস্যা সমাধানে আপনি সম্পূর্ণরূপে মেথি ও কালোজিরার উপড় নিশ্চিন্তে ভরসা করতে পারেন। কারণ মেথি ও কালোজিরাতে থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন, এন্টি-অক্সিডেন্ট, থাইমোকুনোন, ফাইবার, এমাইনো এসিড, গ্যালাস্টোম্যানান, খনিজ এবং এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি। যা চুল পড়াকে যাদুর মতো রোধ করে দেয়।
নতুন চুল গজাতে মেথি ও কালোজিরার ব্যবহার
বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের অভাবে মাথা থেকে যেমন চুল ঝরে পড়ে তেমনি আবার কিছু পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেলে নতুন চুল গজায়। এই খাবার গুলোর মধ্যে রয়েছে- বাদাম, দুধ, আলু, বিভিন্ন ধরনের শাক ( বিশেষ করে পালং শাক), দই, ওটস, ডাল, পনির, চিয়া বীজ, টক জাতীয় ফল, প্রভৃতি। এসব পুষ্টিকর খাবার স্কাল্পকে ভালো রাখে। কেননা স্কাল্পে পুষ্টি উপাদানের যোগান না থাকলে চুলের গোড়ায় পুষ্টি উপাদান যেতে পারবে না।
এক কথায় বলা যায় খাবারে প্রচুর ভিটামিন, প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ওমেগা-৩ প্রয়োজন। তবে মাথায় নতুন চুল গজানোর জন্য সবথেকে বেশী প্রয়োজন যেটা সেইটা হলো বায়োটিন। কেননা বায়োটিনের অভাবেই নতুন কোন চুল গজায় না। তাই বায়োটিন সংগ্রহে এসব খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবার আমরা এটাও দেখি যে এই সব পুষ্টিকর খাবার থেকে উৎপাদন হয় লেসিথিন, নিকোটিনিক এসিড আমাদের চুলের ফলিকল রাখে সতেজ। ফলে নতুন চুল গজায়।
অন্যান্ন উপকারিতা
মেথি এবং কালোজিরা তে থাকা এই সকল গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলি মাথার খুকশি দূর করে, চুলকে ঘন করে, স্কাল্পকে সুস্থ্য রাখে, চুলের গোড়া মজবুত করে প্রভৃতি। এছাড়া কালোজিরা বা মেথির তেল মাথায় দিলে চুল সিল্কি হয়, ঝলমলে উজ্জ্বল হয় এবং চুলের বৃদ্ধি ঘটে বা চুল লম্বা হয়।
চুলের তত্ত্বাবধানে মেথি ও কালোজিরার ব্যবহার
চুল হলো আমাদের

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url