কলার খোসার উপকারিতা সম্পর্কে জানুন
কলার খোসার উপকারিতার আছে অনেক যা আমাদের অনেকের কাছে সেইটা অজানাই হয়ে রয়ে গেছে। কলা প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন দিয়ে পরিপূর্ণ একটি বারোমাসি ফল। যা আমাদের স্বাস্থ্যের ব্যপক
উন্নতি ঘটায়। তাই আমরা কলার পুষ্টিগুণ বিচার করে কেবল কলা খেয়ে তার খোসা ডাস্টবিনে ফেলে দিই। আমরা মনে করি যে, কলার খোসাতে কোন ভিটামিন নেই। কিন্তু কলার খোসাতে কি পরিমাণ ভিটামিন আছে সেইটা আজ আমরা জানব।
সূচিপত্রঃ কলার খোসার উপকারিতা
কলার খোসার উপকারিতা
কলার খোসার উপকারিতা যত উপকারিতা রয়েছে সেই সমস্তটা যদি আপনাদেরকে বলা হয়, তাহলে
আপনারা নিশ্চয় চমকে উঠবেন। হয়তো কেউ কেউ বলে উঠতে পারেন যে কলার খোসাতে এত পরিমাণ
ভিটামিন রয়েছে! আমি আগে কেন জানতে পারলাম না! আগে জানলে অনেক উপকৃত হতাম, আগে কেন
বলেননি, ইত্যাদি। তো কলা খাওয়ার পরে তার খোসা দিয়ে কি কি উপকার পাওয়া সম্ভব
সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবো।
আমরা সবাই জানি যে কলাতে কি পরিমান ভিটামিন থাকে। তাই সবার আগে জানবো যে কলাতে কি
কি ভিটামিন থাকে আর কি কি উপকার হয়। কলাতে রয়েছে প্রচুর শর্করা, কার্বোহাইড্রেট,
ফাইবার, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম, আয়রন, সেরোটোনিন, মেলাটোনিন,
প্রবায়োটিক প্রভৃতি। যা আমাদের খাদ্যকে হজম, প্রশান্তির ঘুম, স্বাস্থ্যের উন্নতি,
কোষ্ঠ-কাঠিন্য, হৃদরোগ, রক্তচাপ, শক্তি বৃদ্ধি, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি প্রভৃতি উপকার
সাধিত করে থাকে।
কলা হলো আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় ও পুষ্টি উপাদানে ভর্তি এবং সকলের পছন্দনীয় একটি
দেশীয় ফল। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খাবারের টেবিলে প্রতিটি বাড়িতেই কলা থাকা চাই।
কলা যেমন পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ তেমনি কলার খোসাতেও রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
আমাদের ত্বকের যত্নে দারুন উপযোগী, তাছাড়া কলার খোসাতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
চুল পড়া রোধ করে, সুস্থ্য বজায় রাখতে প্রভূত সাহায্য করে।
উপড়িউক্ত বিষয় ছাড়াও কলার খোসাতে থাকা ভিটামিন ব্রণের বিরুদ্ধে লড়াই করে ত্বককে
আলাদা একটা সুরক্ষা প্রদান করে। তাছাড়া এতে থাকা পটাশিয়াম বাহ্যিকভাবে আমাদের
ত্বকের নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করে। আরও পরিলক্ষ করা যায় যে, কলার খোসাতে থাকা
পটাশিয়াম ও বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন আমাদের ত্বক থেকে বিরক্তিকর বলিরেখা সরিয়ে
ফেলে। যার ফলে ত্বকে নতুনত্বের একটা ভাব ফুটে ওঠে।
কুচকুচে কলো দাঁত বা দাঁতে অনেক দিনের পড়ে থাকা স্পট অথবা পান খাওয়ার পরে নষ্ট
হয়ে যাওয়া কালো দাঁতের উপড় কলার খোসার থেরাপি প্রয়োগ করলে সেগুলো অতি সহজেই
নির্মূল করে ফেলে। আবার এতে থাকা ভিটামিন ও পটাশিয়াম চুল পড়া রোধ করে থাকে।
এই খোসাতে থাকা ভিটামিন ও পটাশিয়াম ওজন নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা পালন করে এবং এই
খোসা থেকে প্রাপ্ত চা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম নিশ্চিত করে এবং এই খোসা যে দারুন এক
জৈব সার হিসেবেও সুপরিচিত।
কলার খোসা সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ
কলার খোসা সংগ্রহ করার জন্য যেটা করা যেতে পারে সেইটা হলো যে,আমরা বাড়িতে
খাবারের জন্য বাজার থেকে যেই পরিমাণ কলা নিয়ে আসা হয়, সেই কলা খাবারের পরে সেই
কলার খোসা ফেলে না দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখা উচিৎ। যদি সেগুলো নিত্যান্তই কম হয়ে
যায় তাহলে কলার খোসাগুলি কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে সেইটা ফ্রীজে রেখে দেওয়া যেতে
পারে অথবা রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তাছাড়া ছায়া বা বাতাসেও শুকিয়ে
সংরক্ষণ করা যেতে পারে।
কলার খোসা ত্বকে, মুখে অথবা দাঁতে ব্যবহার করার জন্য সরাসরিভাবে ব্যবহার করা যাবে
না। এর জন্য কিছু কলা কৌশল অবলম্বন করা খুবই বাঞ্ছনীয়। কেননা কলার খোসা সরাসরি
ব্যবহার করলে তার সাথে লেগে থাকা বিভিন্ন ধরণের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া,
ক্ষতিকর ভাইরাস এবং রোগ জীবানুর কারণে কলার খোসার থেকে উপকার পাওয়ার পরিবর্তে
হিতে বিপরীত হয়ে যেতে পারে। এজন্য খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।
কলার খোসা ব্যবহারের জন্য প্রথমে উপড়িভাগে হালকা কিছু অংশ এবং নিচের থেকে হালকা
কিছু অংশ কেটে ফেলে দিতে হবে। তারপরে সেই কর্তন করা অংশ স্বাভাবিক
ব্যবহার্য পানি দিয়ে অথবা ঠান্ডা পানি দিয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তাছাড়া আরও
ভালোভাবে পরিষ্কার করার জন্য হালকা গরম পানি দিয়ে কলার খোসা পরিষ্কার করে নিলে
খুবই ভালো হয়। এভাবে কলার খোসা পরিষ্কার করে নিলে রোগ-জীবানুর হাত থেকে খুব সহজেই
রক্ষা পাওয়া যায়।
কলার খোসার কিছু উপকারিতা
আমরা কলার উপকার যতটা জানি, কলার খোসার উপকারিতা সম্পর্কে ততটা জানিনা। কলার মতো
কলার খোসা আমাদের শরীরে ধীরে ধীরে জমা হওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে
সাহায্য করে, কলার খোসা সম্পূর্ণটাই ভিটামিন সি দিয়ে পরিপূর্ণ বলে এটি রোগ
প্রতিরোধক। এটা প্রদাহ কমানোর জন্য খুবই দারুন কাজ করে, আবার এন্টিসেপ্টিক
হিসেবেও কলার খোসার ব্যবহার খুবই সফল তাতে কোন রকম সন্দেহ নেই।
কলার খোসাতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে বলে এটি ব্যবহারের ফলে আমাদের ত্বককে
ময়েশ্চরাইজ করা খুবই সহজতর হয়। ত্বককে হাইড্রেট রাখার জন্য কাজ করে। সময়ের সাথে
সাথে যখন আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়, কিন্তু কলার খোসা ব্যবহার করলে
তার ভেতরে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনের কারণে ত্বক হয়ে ওঠে আগের থেকেও
উজ্জ্বল দৃঢ়।
এবার চলুন আমরা কলার খোসার ব্যবহার সম্পর্কে আপনাদের অবহিত করবো। যে, কোন
কোন কাজে আর কিভাবে আপনারা কলার খোসার সঠিক ব্যবহার করবেন-
ত্বক তত্ত্বাবধানে কলার খোসার ব্যবহার
ত্বক হলো অতি বিষম বস্তু। সঠিকভাবে এই ত্বকের তত্ত্বাবধান না করলে ত্বক নষ্ট
হওয়ার সম্ভাবনা অনেক। আর আমাদের ত্বকের তত্ত্বাবধানে কলার খোসার ভূমিকা অপরসীম।
কলার খোসা ব্যবহার করে আমরা যেসমস্ত উপকার পেতে পারি সেগুলো হলো- উজ্জ্বলতা
বৃদ্ধির ক্ষেত্রে, ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে, বিভিন্ন কালো দাগ উঠাতে, ব্রণের
চিকিৎসায়, ত্বকের বলিরেখা মিশিয়ে ফেলতে, দুর্বল ত্বককে সতেজ রাখা সহ প্রভৃতি কাজে
কলার খোসার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে
প্রথমে কলার খোসার সাদা অংশ ছাড়িয়ে নিয়ে কোন একটা পাত্রে রাখতে হবে। এরপরে
সেই সাদা অংশের সাথে পরিমাণ মতো মধু মিশিয়ে দিতে হবে এবং সেইটা ভালো করে মিক্সড
করে নিলে ভালো হবে। প্রয়োজনে কলার এই মিশ্রণটি ব্লেন্ডারে দিয়ে মিক্সড করে নিলে
সবথেকে ভালো। এরপরে সেই মিশ্রণটি কিছুক্ষণের জন্য রেখে দিতে হবে। এবার সেই
মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে ২০-২৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
কলার খোসার সাদা অংশের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ভালোভাবে মিক্সড করে নিতে হবে।
তারপরে সেইটা ত্বকে লাগিয়ে দুই আঙ্গুলের মাথা দিয়ে ঘুষতে হবে। এভাবে ঘষে নেওয়ার
পরে সেই মিশ্রণটি ত্বকে লাগিয়ে রাখুন কিছুক্ষণের জন্য। এর পরে ধুয়ে ফেলুন।
কলার খোসার সাদা অংশের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে নিয়ে সেইটা ত্বকে লাগিয়ে রেখে ১৫-২০
মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপরে সেই স্থান গুলি হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে
হবে।
কলার খোসার সাথে ওটস মিশিয়ে নিতে পারলে দারুন একটা রেজাল্ট পাওয়া যায়। এটি ত্বককে
আরও গ্লো করে।
ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে
ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে কলার খোসার জুড়ি মেলা ভাড়। কলার খোসাতে থাকা ভিটামিন,
এন্টি-অক্সিডেনট এবং পটাশিয়াম ত্বকের হারিয়ে যাওয়া আদ্রতাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
ত্বকের শুষ্কভাবকে দূর করে ত্বককে দীর্ঘ সময় তেলতেলে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া
কলার খোসা ত্বকে ব্যবহার করলে ত্বক হয়ে ওঠে ময়েশ্চারাইজার এবং
মৃসন।
বিভিন্ন কালো দাগ উঠাতে
আমাদের ত্বকে কম বেশী অনেক কালো দাগ থাকে। হয়তোবা কোনটা নতুন আবার কোনটা অনেক
পুরনো। অনেক সময় এসব দাগে বিভিন্ন প্রসাধনী প্রয়োগ করার পরেও ভালো রেজাল্ট পাওয়া
যায় না। অথবা এসব দাগ উঠেনা। আর এই ধরনের কালো দাগ উঠানোর জন্য কলার খোসা সবথেকে
উপযোগী। কলার খোসার সাদা অংশ আলাদা করে নিয়ে একটি পাত্রে রাখুন। এরপরে তার সাথে
কিছু পরিমাণ দই মিশিয়ে নিন।
বিশেষ করে টক দই হলে সবথেকে বেশী ভালো। টক দই আর কলার খোসা এবং তার সাথে সামান্য
কাঁচা হলুদ মিশিয়ে একসাথে রেখে দিবেন অথবা ব্লেন্ডারে দিয়ে খুব সুন্দর করে
মিক্সার করে করে একটি কম্বো প্যাক বানিয়ে নিন। এবার যেখানে কালো দাগ আছে সেখানে
লাগিয়ে দিন। কালো দাগের উপড় লাগানো স্থানে বৃত্তাকার ভাবে ঘষতে থাকুন। তারপরে সেই
পেস্টটি ত্বকের উপড় ১৫-২০ মিনিট রেখে দিয়ে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে
ফেলুন।
এভাবে কিছুদিন প্রয়োগ করলে দেখবেন কালো দাগ আর থাকবে না। কারণ কলাতে থাকা ভিটামিন
সি, এন্টি-অক্সিডেনট, টক দই এ থাকা প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, প্রোবায়োটিক, এবং কাঁচা
হলুদে থাকা কার্কিউমিন, ভিটামিন সি ও এন্টি-সেপ্টিক মিলে তৈরী হয় জোড়ালো এক
সমাহার। যা অতি দ্রুত কালো দাগ তুলে ফেলতে দারুন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
ব্রণের চিকিৎসায়
ব্রণ বর্তমানে বাংলাদেশে পরিচিত বৃহৎ একটি সমস্যা। অনেকে দীর্ঘদিন থেকে এই ব্রণ
জাতীয় সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ব্রণের কারণে কারও মুখের বড় ধরনের বিকৃতি ঘটে, কারও
ত্বক থেকে ব্রণের দাগ দূর হয় না। এই ব্রণের জন্য অনেক ট্রিটমেন্ট নিয়েও যখন কাজ
হয়না তখন অনেকে হতাশ হয়ে যায়। ফলে তারা আর ব্রণের চিকিৎসা করেন না। যারা এই
অবস্থায় রয়েছেন তাঁদের জন্য সবথেকে বেশী উপকারী হলো কলার খোসা দিয়ে তৈরী বিভিন্ন
কম্বিনেশন প্যাক।
ব্রণের চিকিৎসায় কলার খোসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কলার খোসা দিয়ে ব্রণ দূর করতে কলার
খোসার সাথে কিছু কাঁচা হলুদ, হালকা একটু মধু দিয়ে মিক্সড করে একটা পেস্ট বানাতে
হবে। এরপরে সেইটা ব্রণের উপড় প্রয়োগ করে ৩০ মিনিটের জন্য রেখে দেওয়ার পর হালকা
কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এইভাবে বেশ কিছুদিন ব্যবহার করলে তার
ফলাফল আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন। যে, ব্রণের কালো দাগ দূর হবে,ব্রণ নিস্তেজ হয়ে
যাবে এবং মুখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে।
আবর্জনা হিসেবে কলার খোসা ডাস্টবিনে ফেলে না দিয়ে সেইটা যদি পানিতে দিয়ে কিছুক্ষণ
ফুটিয়ে নেন আর ফুটানো সেই পানি একেবারে ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে যদি ব্রণে লাগাতে
পারেন, অথবা ইনফেকশন হয়ে আছে এমন স্থান ধুয়ে ফেলতে পারেন তাহলে সেখানেও দারুন
ফলাফল পাওয়া সম্ভব।
ত্বকের বলিরেখা মিশিয়ে ফেলতে
আমাদের অনেকের ত্বকে বলিরেখা দেখতে পাওয়া যায়। যেগুলো খুব সহজে দূর করা সম্ভব
হয়না। তাই এই দূরদম্য বলিরেখা দূর করতে কলার খোসার সাদা অংশ বলিরেখাতে ঘসলে
খুব ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়। কেননা কলার খোসাতে প্রচুর ভিটামিন সি,
এন্টি-অক্সিডেনট থাকার কারণে খুব সহজেই ত্বক থেকে বলিরেখা দূর হয়ে যায়। কলার খোসা
দিয়ে বলিরেখা একবার দূর হলে সেইটা পরবর্তিতে সেইটা হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এছাড়া বলিরেখা দূর করার আরও চমৎকার কিছু টিপস রয়েছে যেগুলো বলিরেখা দূর করতে
জোড়ালোভাবে কাজ করে। কলার খোসার সাথে মধু, লেবুর একটা কম্বিনেশন বানিয়ে নিয়ে
পেস্ট তৈরী করে ত্বকে লাগানোর পরে সেইটা ত্বকের উপড়ে রেখে দিতে হবে ২৫-৩০ মিনিটের
জন্য। তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এভাবে কিছুদিন এই পেস্ট ত্বকে
ব্যবহার করলে বলিরেখা দূর করা যায়।
দুর্বল ত্বককে সতেজ রাখতে
দুর্বল ত্বককে সতেজ করতে কলার খোসা প্রকৃতই একটি উপকারী বস্তু। কলার খোসাতে থাকা
ভিটামিন সি, এন্টি-অক্সিডেনট ত্বককে সতেজ রাখে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে,
ত্বককে প্রাণবন্ত করে তুলে।
চুলের তত্ত্বাবধানে কলার খোসার ব্যবহার
চুল পড়ে যাওয়া সমস্যাটি বর্তমানে দেশে দারুন পরিচিত জটিল একটি সমস্যা। এটি
ছোট-বড় সব বয়সের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাটি দৃশ্যমান। এই সমস্যা সমাধানে সবাই নানান
রকম ট্রিটমেন্টের দিকে ঝুঁকেও কেমন কোন সমাধান মিলছে না। তাই এই সমস্যাটি
সমাধানের জন্য কলার খোসার কম্বোপ্যাক গুলি ব্যবহার করতে পারেন। কলার খোসা যেমন
ত্বকের জন্য সবথেকে উপযুক্ত একটি প্রাকৃতিক প্রসাধনী, তেমনি চুল পড়া রোধ করতেও
কলার খোসার উপকার অনস্বীকার্য।
কলার খোসাতে থাকে প্রচুর পটাশিয়াম, কিছু পরিমাণ ম্যাগনেসিয়াম, প্রচুর ভিটামিন
সি, সামান্য কিছু বি৬ এবং এন্টি-অক্সিডেনট যা চুল ঝড়ে পড়ার হাত থেকে বাঁচায়।
তাছাড়া কলার খোসাতে থাকা এসব ভিটামিন চুল পড়া ছাড়াও মাথার স্কাল্পকে দাড়ুনভাবে
রক্ষা করে। এছাড়া কলার খোসাকে পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেইটা ভালোভাবে ছেঁকে নিয়ে
ঠান্ডা করে মাথায় দিলে চুলের গোড়া শক্ত হয়, স্কাল্প ক্লিন থাকে।
কলার খোসা যেভাবে মাথায় ব্যবহার করবেন সেইটা হলো- প্রথমে কয়েকটা কলার খোসা
ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে তার সাথে সামান্য পরিমাণ অলিভ অলিভ অয়েল মিশিয়ে
দিয়ে ব্লেন্ডারে সুন্দর একটা পেস্ট করে নিন। তারপরে এই পেস্ট স্কাল্পে লাগিয়ে
রাখতে হবে ২৫-৩০ মিনিট এবং শ্যাম্পূ দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। এই প্যাক এভাবে
রেগুলার ব্যবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে, স্কাল্প ভালো থাকবে এবং চুল হবে
ঝলমলে।
দাঁতের তত্ত্বাবধানে কলার খোসার ব্যবহার
দাঁত হলো খাবার চিবানো বা খাওয়ার জন্য শরীরের সবথেকে উপকারী একটি উপাদান। বিভিন্ন কারণে আমাদের এই মূল্যবান সম্পদটি নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে অযত্নের কারণেই সবথেকে বেশী। দাঁতে স্পট পড়া, হলদে ভাব আসা, ক্যাবেটিজ জমে থাকা প্রভৃতি। দাঁতের এই ধরনের সমস্যা দূর করতে কলার খোসা দারুন কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। দাঁতের এই সমস্যা দূর করতে কলার খোসার সাদা অংশ সংগ্রহ করতে হবে।
সংগ্রহ করা কলার খোসার সেই সাদা অংশটি এবার দাঁতের যেখানে যেখানে সমস্যা রয়েছে সেখানে লাগিয়ে হালকা করে মেসেজ করে রেখে দিতে হবে একটু সময়ের জন্য। তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে অথবা ভালো কোন পেস্ট দিয়ে ব্রাশ করে নিলে দেখা যাবে যে, দাঁত আগের তুলনায় অনেক বেশী পরিষ্কার, ঝকঝকে দেখা যাবে। কারণ কলার খোসাতে থাকা ভিটামিন সি, এন্টি-অক্সিডেনট, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিাম দাঁতের জন্য খুবই উপকারী।
আর এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে দাঁতের গোড়া ভালো থাকবে ও চকচকে হবে।
জৈবসার হিসেবে কলার খোসা
বর্তমান সময়ে জৈব সারের তুলনায় রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে সর্বোচ্চ হারে। এই জন্য গাছের ফুল-ফল কম আসে, অসময়ে ঝড়ে পড়ে, পরিপক্ক হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যায়, পোকা-মাকড়ের উপদ্রব বাড়ে এবং গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু জৈব সারে এসবের কোন ভয় থাকে না। বরং জৈব সারের প্রভাবে গাছ সুস্থ-সবল হয়, যথা সময়ে ফুল-ফল আসে এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকে।
তাই জৈব সার উৎপাদনে কলার খোসা অনেক মূল্যবান। কলার খোসাকে ভিজিয়ে রেখে সেই পানি গাছে স্প্রে করে দিতে পারলে অথবা গাছের গোড়ায় ঢালতে পারলে সেই গাছ থাকবে সুরক্ষিত । কেননা এই স্প্রে করার কারণে গাছে থাকা ক্ষতিকর পোকা-মাকড় গুলি আর গাছ এবং ফলকে নষ্ট করতে পারবে না। ফলে গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে ও ফলপ্রসু হবে।
এছাড়া কলার খোসাকে শুকিয়ে বা গুঁড়ো করে গাছের গোড়ায় থাকা মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে পারলে গাছ আরও বর্ধনশীল হবে। কেননা কলার খোসাতে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস এবং অন্য উপাদানের উপস্থিতির কারণে গাছ সুস্থ এবং গাছের ফুল-ফল প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে মনে রাখতে হবে একটি গাছের গোড়ায় খুব বেশী পরিমাণ কলার খোসা যেন না দেওয়া হয়। তা নাহলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে।
শেষকথা
শেষ কথা হিসেবে বলা যায় যে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পুষ্টি সংগ্রহের জন্য কলার যেমন গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি আবার নানাবিধ চিকিৎসার ক্ষেত্রে কলার খোসারও গুরুত্ব নেহাৎ কম নয়। আপনাদের কাছে বলতে পারি যে, আজ কলার খোসা নিয়ে যা কিছু আলোচনা করা হলো তা যদি আপনার নিজেদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন তাহলে তার ফল অবশ্যই পাবেন। কিন্তু এটাও একটা কথা যে উপড়ে বর্ণিত-
কলার খোসা নিয়ে যেসমস্ত পরামর্শ দেওয়া হলো সেইটা করার পরেও যদি আপনাদের সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আর দেরি না করে অতি শীগ্রই আপনার নিকটস্থ ডাক্তারের পরমর্শ নিন।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url