জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় কি

ক্যান্সার প্রতিরোধে ১৩ টি খাদ্যের নাম 

জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় রয়েছে অনেক। জরায়ু ক্যান্সার হলে বাড়তি টেনশন না করে বরং তার প্রতিকার করা নিয়ে ভাবাটাই হলো সবথেকে জরুরী বিষয়। এমন একটা সময় ছিল যখন মানুষ ক্যান্সারের নাম শুনলেই চমকে উঠতো, ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে যেত, রক্ত হিম করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো,

জরায়ু-ক্যান্সার-হলে-করনীয়

মানুষের জীবনযাত্রা থমকে যেত ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির কারণে ক্যান্সারের মতো ভয়ঙ্কর রোগও নিরাময় সম্ভব। আর জরায়ু ক্যান্সার হলে ভয়ের কারণ নেই, সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এটি ভালো হয়ে যায়।

সূচিপত্রঃ জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় 

  • জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় বিষয় 
  • জরায়ু ক্যান্সার কি এবং কেন হয়
  • জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ 
  • জরায়ু ক্যান্সার হলে করণীয় বিষয়াবলি 
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা
  • ডাক্তারের চিকিৎসা অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা
  • সার্জারী করা
  • কেমোথেরাপি দেওয়া
  • রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া
  • ইমিউনোথেরাপি দেওয়া
  • টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া
  • জীবন যাপনের পরিবর্তন করা
  • শেষ কথা 
আরও পড়ুনঃ 

জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় বিষয়

জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় হলো যে, আপনার উচিৎ অবিলম্বে বা আর সময় নষ্ট না করে ভালো কোন গাইনোকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করে এর প্রতিকারের জন্য সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কেননা আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থার এত আধুনিকায়ণ করা হয়েছে যে, যার আশির্বাদ স্বরুপ নানান বড় বড় ধরণের রোগ-বালাই গুলিও নিরাময় করে সুস্থ্য জীবন-যাপন করা সম্ভব।  তেমনি ক্যান্সার একটি ভয়ঙ্কর ব্যাধি অথবা ক্যান্সার একটি মরণব্যাধি হলেও সঠিক এবং সুচিকিৎসাায় অধিকাংশ জরায়ুর ক্যান্সার বা ক্যান্সারের সেল গুলি নষ্ট করে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। 

জরায়ু ক্যান্সার কয়েকটি পর্যায়ে বিভক্ত হয়ে থাকে। প্রথম পর্যায়েএই ক্যান্সারের জীবানু জরায়ুর ভেতরে আংশিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই অবস্থায় ক্যান্সারের জীবানু জরায়ুর আশেপাশে জরায়ু, বিভিন্ন ধরণের টিউব যেমন-ফ্যালোপিয়ান এবং ডিম্বাশয়কে হালকাভাবে সংক্রমণিত করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে দেখা যায় ক্যান্সার আগের তুলনায় দ্বিগুণ পরিমাণ তার করাল থাবা বসাতে থাকে। যেখানে ক্যান্সার জরায়ু ছাড়াও শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। তৃতীয় পর্যায়ে জরায়ুকে পরিবেষ্টিত করা  করা সমস্ত টিস্যুগুলোকে ক্যান্সার আক্রমণ। যার ফলে জরায়ু আস্তে আস্তে নিজের কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে। চতুর্থ পর্যায় অর্থাৎ এটি ক্যান্সারের সর্বোচ্চ পর্যায়। 

চতুর্থ পর্যায়ে ক্যান্সার নিজের ভয়ঙ্কর রূপের জানান দেয়। যেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্যান্সারের শক্তিশালী সেলগুলো দিয়ে আক্রান্ত থাকার ফলে ওইসব প্রত্যঙ্গ প্রায় সম্পূর্ণণটাই কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। এমতাবস্থায় ক্যান্সারের সেলগুলোকে প্রতিরোধ করতে রেডিয়েশন থেরাপি, সার্জারি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেভ থেরাপি এবং ইমিউনোথেরাপি ইত্যাদি শক্তিশালী থেরাপির ফলে ক্যান্সারের জীবানু বা সেলগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ক্যান্সারের যাত্রাকে বাহ্যত করা হয়। 

জরায়ু ক্যান্সার কি এবং কেন হয়

জরায়ু ক্যান্সার হয় মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে। জরায়ুর কোষগুলো বাড়ে তার নিজেস্ব স্বাভাবিকতা অনুসারে। কিন্তু এই কোষগুলো যখন বিভাজন হয়ে যায় তখন সেগুলো নিয়ন্ত্রণের অধীনে আর থাকে না। এরা অতি দ্রুত বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয় ও অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং জরায়ুর সম্পূর্ণ অংশ জুড়ে একটি প্রলেপ সৃৃষ্টি করে যেই প্রলেপ ক্যান্সারের জীবানুকে বহন করে থাকে ও জরায়ুর কাজকে রুদ্ধ করে দেয় । যাকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারও বলা যেতে পারে। জরায়ুতে সাধারণত এন্ডোমেট্রিয়াল নামক ক্যান্সারই সবথেকে বেশি পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।  

  • যদিও জরায়ুর ক্যান্সার হয় তার কোষগুলোর অনিয়ন্ত্রত বৃদ্ধির ফলে বা তার পরিবর্তনের ফলে। তবুও অনেকসময় দেখা যায় যে-
  • হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়।
  •  বংশগত কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়।
  • উচ্চ রক্তচাপের কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়।
  • ডায়াবেটিসের কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়।
  •   জীবন যাত্রার মানের কারণে জরায়ু ক্যান্সার হয়।

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণসমূহ 

জরায়ু ক্যান্সারের লক্ষণ রয়েছে অনেকগুলি। যেগুলোর প্রাদুর্ভাব দেখলে বুঝতে হবে যে জরায়ুতে ক্যান্সারের সংক্রমণ হয়েছে বা এখনই তার চিকিৎসা গ্রহণ করা দরকার। তাই চলুন কোন কেন লক্ষণ দেখলে বুঝতে হবে যে, ক্যান্সার হয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিই- 
  • যোনি থেকে অস্বাভাবিক রকম স্রাব বের হওয়া
  • রক্ত স্রাব হওয়া 
  • পেট বা তলপেটে চাপ ধরে থাকা
  • পেটে বা তলপেটে ব্যাথা অনূভুত হওয়া
  • সহবাস কালে ব্যাথা হওয়া
  • যোনি দিয়ে অধিক ব্লেডিং হওয়া
  • ক্ষুধা না থাকা
  • ক্লান্তি বোধ করা
  • ওজন কমে যাওয়া 
এসমস্ত লক্ষণ দেখা দিলে অতি দ্রুততার সাথে আপনার নিকটস্থ ভালো কোন গাইনী বা অনকোলজিস্টের সাথে যোগাযোগ করে সঠিক চিকিৎসা নিন এবং সুস্থ্য জীবন যাপন করুন। 

জরায়ু ক্যান্সার হলে করণীয় বিষয়াবলি

জরায়ু ক্যান্সার হলে নানান রকমের চিন্তা-ভাবনা কাজ করে। যেগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রোগী বেশী পরিমাণে দুর্বল হয়ে পড়ে। তবে রোগীকে দুর্বলতা কাটিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনু্যায়ী চলতে হবে। আর ডাক্তারদের পরামর্শে চিকিৎসা গ্রহণ করলে দ্রুততার সাথে সুস্থ্য হয়ে ওঠা সম্ভব। তবুও জরায়ু ক্যান্সারের রোগীদের ক্যান্সার হলে যা কিছু করণীয় সেগুলো হলো-
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা
  • ডাক্তারের চিকিৎসা অনুযায়ী ঔষধ সেবন করা 
  • সার্জারী করা
  • কেমোথেরাপি দেওয়া
  • রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়া
  • ইমিউনোথেরাপি দেওয়া
  • টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া 
  • জীবন যাপনের পরিবর্তন করা
  • শেষ কথা 
চলুন এসব সম্পর্কে এবার বিস্তারিত জানা যাক

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা

জরায়ু ক্যান্সার হলে করনীয় হিসেবে প্রথম কর্তব্য হলো ডাক্তারের কাছে গিয়ে সবকিছু বিস্তারিতভাবে বলা এবং ডাক্তারের নির্দেশিত পথে চলা। এক্ষেত্রে আপনি যদি ভালো অভীজ্ঞ কোন গাইনী অথবা অনকোলজিস্টের কাছে যান তাহলে সবথেকে ভালো হয়। ডাক্তার আপনাকে কয়েক ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার  জন্য আপনাকে বলবে আর সেগুলো সঠিকভাবে হয়ে গেলে সেই রিপোর্টের উপড় ভিত্তি করে ডাক্তার আপনার ট্রিটমেন্ট শুরু করবেন। ক্যান্সার একটি বড় এবং মারাত্মক ও জীবনঘাতী একটি রোগ বলে এর ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে আপনার রোগের সম্পূ্র্ণ বিবরণ দেখলে ডাক্তার সিওর হবেন যে, আপনার রোগ কোন পর্যায়ে রয়ছে কোন ধরনের ঔষধ দিতে হবে, কি কি ঔষধ দিলে তাড়াতাড়ি রোগেে প্রাদুর্ভাব কমবে ইত্যাদি কাজে দাড়ুনভাবে সহযোগীতা করে থাকে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা। 

ডাক্তারের চিকিৎসা অনু্যায়ী ঔষধ সেবন করা

জরায়ুর ক্যান্সার ধরা পড়লে বাড়িতে অযোথা সময়ের  অপচয় না করে নিকটস্থ অনকোলজিস্টের পরামর্শ অনু্যায়ী জরায়ু থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নেওয়া উচিৎ। এটা ডাক্তার এবং রোগী উভয়ের জন্যই উপকারী। কেননা এর ফলে ডাক্তারের চিকিৎসা সুবিধা এবং অপরদিকে রোগীর রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজতর হয়। জরায়ুর ক্যান্সার খুবই জটিল বিষয় হওয়ায় এই ক্যান্সারের সেল গুলোকে তার বৃদ্ধি থেকে রোধ করা একটু কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তাই এই রোগের চিকিৎসা গ্রহণ করা সত্ত্বেও একটু সময় নেয় ক্যান্সারের সেল বা কোষ গুলোকে ধ্বংস করতে।

তবে প্রথম পর্যায়ে এই রোগ ধরতে পারলে আর চিকিৎসা নিলে এই জরায়ু ক্যান্সার সমূলে নির্মূল হয়ে যায় এবং রোগী সুস্থ্যভাবে জীবন কাটাতে সক্ষম। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনু্যায়ী রোগী যদি সঠিক চিকিৎসা নিয়ে ঔষধ খাওয়া খুবই জরুরী।


সার্জারি করা

ক্যান্সার প্রতিরোধে সার্জারী একটি সুপরিচিত ও সহজ পদ্ধতি। শরীরের কোন অংশে যখন ক্যান্সার হয়, তখন সেই স্থান বা তার আশেপাশে টিউমারের মতো একটা আকৃতি গঠন করে অথবা ওই অংশের চারপাশের টিস্যু গুলিও আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এভাবে ক্রমান্বয়ে যতদিন অতিবাহিত হতে থাকে ততই এই টিউমার বা টিস্যুগুলি শরীরের নিয়ম লঙ্ঘন করে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং শরীরের বড় অংশের ক্ষতি সাধন করে। তাই যদি প্রথম অবস্থায় বা ছোট অবস্থায় এসব টিউমার কেটে ফেলা বা এসব টিউমারের চারপার্শে থাকা টিস্যুর কিছু অংশকে শরীর থেকে আলাদা করা হয় তাহলে ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকেনা বললেই চলে।

ক্যান্সার হলে সকল ক্ষেত্রে সার্জারী আবার যথোপযোগী হয় না। 

কেমোথেরাপি দেওয়া

মানব শরীরে ক্যান্সারের সেলগুলো যখন ক্রমাগত বেড়েই চলে এবং অন্য ঔষধের দ্বারা যখন সেই আক্রমণকে প্রতিরোধ করা যায় না তখন ক্যান্সারের এই সেল বা ক্যান্সারের কোষগুলোর বৃদ্ধির হারকে রোধ করতে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে। কেমোথেরাপির মাধ্যমে জরায়ু ক্যান্সারের রোগীকে যেই ঔষধ প্রদান করা হয় সেইটা উক্ত রোগীর সমস্ত শরীরে প্রেবেশ করে এবং যেখানে যেখানে ক্যান্সারের সেলগুলো তাদের ঘাঁটি গেরে থাকে সেসব সেল বা ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলা হয়। ফলে ক্যান্সার আর বৃদ্ধি পায় না। কেমোথেরাপি দিলে রোগী খুবি তাড়াতাড়ি সুস্থ্যতার দিকে ফিরে আসে।

তবে সকলের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি সমানভাবে কাজ নাও করতে পারে। কেমোথেরাপি প্রথমে রাউন্ড আকারে দিতে হয়। এক রাউন্ড বলতে একটি রোগীকে প্রতি ২১ দিন অথবা ২৮ দিনের মধ্যে বেশ কয়েকবার এই কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। যাতে ক্যান্সারের কোষগুলি মরে যায়। এর পরে রোগীকে কিছুদিনের একটা রেস্ট বা বিরতি দেওয়া হয়। যাতে রোগীর শরীরে মরে যাওয়া ক্যান্সারের সেলের পরিবর্তে নতুন সুস্থ্য কোষ গঠিত হয়ে তারা যেন স্বাভাবিক কর্মকান্ড করতে পারে। এরপরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, রোগীর শরীরে ক্যান্সারের কোষের অবস্থা অনুযায়ী পুনরায় রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। 

রেডিয়েশন থেরাপি 

যখন কোন ব্যাক্তির কোন অঙ্গ ভেঙ্গে যায় তখন সেখানে ট্রিটমেন্ট করার পূর্বে তার অবস্থা জানতে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এক ধরনের বিকিরণ রশ্মি ব্যবহার করা হয়।  যার দ্বারা আমরা এক্স-রে করি। ঠিক তেমনিভাবে মানব শরীরের কোন অংশে যদি ক্যান্সার আক্রমণ করে বা তার সেলগুলো অবাঞ্ছিতভাবে বেড়ে যায় অথবা সেখানে যদি টিউমারের আকৃতি ধারণ করে তাহলে তার অবস্থা অনুসারে তাকে ক্যান্সার বলা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি সেইটা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় আর সাধারণ ট্রিটমেন্টে যদি এই সেল গুলোর বৃদ্ধি হ্রাস না পায় তাহলে ক্রমান্বয়ে রেডিয়েশন থেরাপি দিয়ে বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক ধরণের বিকিরণ রশ্মি ব্যবহার করা হয়। 

উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিকিরণ রশ্মি ব্যবহার করার ফলে ক্যান্সারের কোষের বংশবিস্তারকারী  ডিএনএ ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই রেডিয়েশন থেরাপি ক্যান্সারের বিভাজনকে রোধ করতে সক্ষম, যাবতীয় টিউমার গুলিকে সমূলে উৎপাটন এবং নতুন কোষ গঠণ করতে সাহায্য করে।

ইমিউনোথেরাপি দেওয়া

জরায়ু সহ বিভিন্ন ক্যান্সার রোধের জন্য মুখে খাওয়া ঔষধ যখন অনেকটা সময় নিতে থাকে তখন সেই ক্যান্সারের কোষ বা সেল গুলির বিস্তার রোধ করতে দেওয়া হয় থেরাপি। ক্যান্সারের এক একটা স্টেপের জন্য রয়েছে এক এক রকমের থেরাপি। ক্যান্সার যখন সর্বশেষ পর্যায়ের কাছাকাছি যায় তখন ইমিউনোথেরাপি  থেরাপি দেওয়া হয়। ইমিউনোথেরাপি বলতে বুঝায় যে,শরীরে থাকা ইমিউন কে ক্যান্সারের বিপরীতে যুদ্ধে লাগিয়ে দেওয়া। ইমিউন থেরাপি জৈবিক উৎস থেকে পাওয়া বলে এর রেজাল্ট অগ্রগণ্য। এটি টিউমারের বা ক্যান্সারের কোষগুলিকে নিখুঁতভাবে খুঁজে খুঁজে তাদের কার্যক্রম নষ্ট করে এবং মেরে ফেলে। 

ইমিউনোথেরাপির ফলে শরীরে থাকা ক্যান্সারের কোষ ভিন্ন অন্য কোষের তেমন কোন ক্ষয়-ক্ষতি হয়না। বরং এটি দেহের ভেতরে থাকা রোগ-প্রতিরোধ করার ক্ষমতাকে আরও জোড়দার করে তুলতে সাহায্য করে। 

টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া

ক্যান্সারের হাত থেকে জীবন বাঁচাতে ঔষধের কোন বিকল্প নেই। কিন্তু এই ঔষধ সব সময় সবভাবে কাজ করে না। তাই ক্যান্সারকে রুখে দিতে এবং নতুন কোষ গঠণ করতে থেরাপি দিতে হয়। এসব থেরাপি বিভিন্ন ধরনের বা মানের হয়ে থাকে। যার মধ্যে সবথেকে বেশী জনবহুল হলো- কোমোথেরাপি,রেডিয়েশন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড  থেরাপি প্রভৃতি। তবে এই থেরাপি গুলোর মধ্য সবথেকে পাওারফুল বা বেশী আপডেটেড হলো টার্গেটেড থেরাপি। এটি নিদ্দিষ্ট একটি ক্যান্সার, কোষ বা সেলকে টার্গেট করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কাজ করে। 

টার্গেটেড থোরাপি ক্যান্সারের কোষ গুলোকে  একবারে মেরে ফেলে এবং নতুন কোষ গঠণ করে। তাছাড়া এই থেরাপির ফলে শরীরে পুনরায় ক্যান্সারের জীবানু প্রবেশ করতে পারে না। 


জীবন যাপনের পরিবর্তন করা


ক্যান্সারের জীবানু শরীরে প্রবেশ করে অনুন্নত জীবন যাপন করার ফলে। পুষ্টিকর খাবারের অভাব, সুষম খাবারের অভাব, ব্যায়াম না করা, ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, নোংরা খাবার খাওয়া, তেল-চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়, নেশা করা প্রভৃতির কারণে শরীরে রোগ-বালাই এর প্রাদুর্ভাব ঘটে।  আর এর পরে শরীরের বিভিন্ন টিস্যুগুলো আস্তে আস্তে ক্যান্সারের আকার ধারণ করে। 

শেষ কথা

ক্যান্সারের নাম শুনলে ভয়ে ভীত বা আতঙ্কিত হয় সবাই। আর যার শরীরে এই রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে তার জীবন শুকিয়ে যায় মৃত্যু ভয়ে। তবে শুরুর দিকে এই ক্যান্সার ধরতে পারলে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভালো হয়ে সুস্থ্য জীবন লাভ করা সম্ভব।






এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url