পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানুন

পায়ের গোড়ালী ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আজ আমরা বিভিন্ন কিছু জানবো। শীতকালে ছোট-বড় সব ধরণের বয়সের মানুষেরই পায়ের গোড়ালি ফাটতে দেখা যায়। কারও কম পরিমাণে ফাটে আবার কারও বেশী পরিমাণে ফেটে যায়, অনেক সময় সেই ফাটা স্থান থেকে রক্ত 

পায়ের-গোড়ালি-ফাটা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

 ঝড়তেও দেখা যায়। পা ফাটা মূলত কোন ছোট বা বড় ধরণের রোগের মধ্যে পড়ে না। কেননা শীতকালে বাতাসের আদ্রতা শুষ্ক থাকে বলে এমনটা হতে দেখা যায়। তবে পা ফাটা যেই কারণেই হোক না কেন, এটা সকলের জন্য একটা অসস্তির বড় কারণ। 

সূচিপত্রঃ পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে প্রথমেই বলা যায় যে, পা ফাটা বড় বা জটিল কোন সমস্যা নয়। বরং পা ফাটা হলো একটি দারুন বিব্রতকর একটি সমস্যা। যা মানসিক ভাবে বিরক্তির বড় কারণ। পা ফাটা থাকলে মনের শান্তি বাহ্যত হয়। সকলের সামনে যাওয়া যায়না। যখন দেখা যায় যে, নিজের সামনে অন্য অনেক মানুষের পায়ের গোড়ালী মসৃন, আর তেলতেল, তখন নিজের ফাটা পা দেখে কাছে নিজেকে অপরাধীর মতো মনে হয়। 

অন্যের সামনে মাথা হেঁট হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করে এই পা ফাটা স্থান। 


শীতকালে আবহাওয়া প্রচুর পরিমাণে শুষ্ক থাকে। এই সময় বাতাসে আদ্রতা থাকেনা বললেই চলে। আর বাতাসে আদ্রতা না থাকার কারণে ত্বকে থাকা পানিও বাতাসে মিশে যায়। যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়। আর এর কারণে পা ফাটে, ত্বক ফেটে যায়। এটা ছাড়াও আরও কিছু কারণে পা ফাটে, যেমন- সোরিয়া -সিসের জন্য পা ফাটে, একজিমা জনিত কারণে পা ফাটে এবং ছত্রাক বা বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলেও পা ফাটার মতো ঘটনা ঘটে। 

উপরিউক্ত বিষয়ের পাশপাশি আরেকটি কারণ রয়েছে যার দরুন পা ফাটে। আর এটি হলো শরীরের অযত্ন করা। একদিকে যেমন প্রকৃতির বিরুপ প্রভাব পরে আমাদের শরীরে, তেমনি তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে না তোলার জন্য ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ  এবং পা ফাটার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাছাড়া শরীর যখন পানি শূন্য হয়ে পড়ে তখনও ত্বক ফেটে যাওয়া দাগ হওয়া বা পা ফাটার মতো বিরুপ অবস্থার সৃষ্টি হয়ে থাকে। 
পায়ের-গোড়ালি-ফাটা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

পা ফাটার কারণ

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে যে, কিভাবে বা কোন কারণে আমাদের পা ফাটে। চলুন সে সমন্ধে কিছু জেনে নিই।
  • দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকাটা শীতকালে পা ফাটার জন্য বড় একটা কারণ। কারণ অনেকক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে থাকলে পায়ের গোড়ালীর উপড় আলাদাভাবে একটা চাপ পড়ে এবং পায়ের গোড়ালীর সাথে ঘর্ষণ লাগার ফলেও পা ফেটে যায়।
  • সময়ের সাথে সাথে মানুষের বয়স বাড়ে। বয়স যখন কম থাকে তখন আমাদের শরীরের যেই স্থিতিস্থাপকতা থাকে সেইটা শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করার জন্য ক্ষমতা রাখে। কিন্তু বয়স যখন বাড়তে থাকে তখন শরীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় ফলে তখন শরীরের সব ধরণের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে না। আর এই কারণেই অনেক বয়স্ক ব্যাক্তির পা ফেটে যায়।
  • শীতকালে আমরা যখন খালি পায়ে হাঁটি তখন আমাদের পা ফাটার বড় একটা সম্ভাবনা থাকে। 
  • ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য প্রতিটি ক্ষত্রেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্কতা অবলম্বন খুবই বাঞ্ছনীয়। কেননা ডায়াবেটিস রোগীদের শরীর এমনিতেই সমস্ত রোগের কারখানা। তাই যদি কোন অসতর্কতার কারণে যদি পা ফাটে তাহলে তাদের দুঃখের আর সীমা থাকে না। এই পা ফাটার কারণে তাদের ফুড আলসার সহ পায়ের গোড়ালীর সেলুলাইটিসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • ভিটামিনের অভাবেও পা ফাটা রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। আমাদের শরীরে যখন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন ই এর উপস্থিতি বেশী থাকে তখন আমাদের শরীর এবং ত্বক উভয়ই ভালো এবং মসৃন থাকে। কিন্তু যখন আমাদের শরীরে এসব অতিব প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেয় তখনই ত্বক শুষ্ক এবং রুক্ষ হয়ে গিয়ে ত্বক এবং পায়ের গোড়ালী ফেটে যায়। 
  • আবার নিয়াসিন ভিটামিন বা ভিটামিন বি৩ এর কারণেও ত্বক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। নিয়াসিনের অভাবে প্যালগ্রো রোগের সূচনা হয়। আর এই প্যালগ্রো রোগের ফলে দারুন ভাবে পা ফাটে। 
  • শীতকালে আবহাওয়া থাকে শুষ্ক। বাতাসে আদ্রতা থাকেনা বললেই চলে। এজন্য শরীরে থাকা আদ্রতা বাতাস শুষে নেয়। ফলে ত্বকে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। যার ফলশ্রুতিতে ত্বক তার নিজেস্ব আদ্রতা হারিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে আদ্রতা আর উৎপাদন করতে পারে না। তাই ত্বক ও পা ফেটে যায়।
  • শীতকালে আমরা গরমের তুলনামূলক অনেক কম পানি পান করি। তাই আমাদের শরীরে ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয় বা পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। যার ফলে ত্বক শুষ্ক রুক্ষ এবং পা ফেটে যায়। 
  • পরিষ্কার-পরিছন্নতা বজায় রাখলে শীতকালে বাতাসের আদ্রতা কম হওয়া সত্ত্বেও ত্বকের কোন সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু আমরা অনেকেই আমাদের ত্বকের যত্ন করিনা বলে আমাদের ত্বক বা পা ফাটার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। 
  • অ্যাটপিক ডার্মাটাইটিস নামের একটি উপসর্গ হলো একজিমা রোগের লক্ষণ। এই রোগের প্রাদুর্ভাব শরীরের যেকোন স্থানেই হতে পারে। আর অনেক সময় এর ফলেই পা ফেটে যায়।    

পা ফাটার লক্ষণ 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় এ আজ আমরা দেখবো যে, পা ফাটার লক্ষণ গুলো কি কি?.
  • পায়ের গোড়ালীর চারপাশের ত্বক বা চামড়ার উপড় হালকা বা গভীরভাবে ফাটল বা গর্ত দেখা যায়। 
  • পা ফেটে গেলে আমরা যখন হাঁটা হাঁটি করি তখন পা ফাটার সেই স্থানে ব্যাথা অনুভূত হয়। 
  • পা ফেটে গেলে সেই স্থান এলার্জির দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে।
  • দাঁড়িয়ে থাকতে অসুবিধা হয়।
  • পায়ের গোড়ালীর ত্বক ব্যপক হারে মোটা হয়ে যায়।
  • পায়ের গোড়ালী অনেকটা খসখসে বলে মনে হয়। 
  • পায়ের গোড়ালীর আশেপাশে ব্যাথা অনুভূত হয়।
  • পায়ের গোড়ালীর যেই অংশ ফাটা থাকে তার পরিপার্শিক অবস্থা হালকা হালকা লাল ভাব দেখা যায়।
  • হালকাভাবে চামড়া উঠে যাওয়ার মতো হয়, ওঠে না কিন্তু অসস্তি ভাব সৃষ্টি করে।
পায়ের-গোড়ালি-ফাটা-দূর-করার-ঘরোয়া-উপায়

পা ফাটা রোধ ও প্রতিকার

শীতকালে অনেকর পা ফেটে চৌচিড় হয়ে যায়। তবে অনেকে মাঠে-ঘাটে কাজ করার দরুন ভালোভাবে পায়ের যত্ন নিতে পারে না। অনেকে হালকা ভাবে পা ফাটা বন্ধ করার জন্য অনিয়মিত প্রচেষ্টা করে এবং কিছু মানুষ পা ফাটাকে রোধ করার জন্য একেবারে আদা-জল খেয়ে লেগে পড়েন ও সফল হয়ে যান। সেজন্য আমরা বলতে পারি যে, শীতকালে পা ফাটা রোধ করতে চাইলে আপনাকে নিয়মিতভাবেই পায়ের তথা ত্বকের যত্ন নিতে হবে।

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় সরণিতে  নিদ্দিষ্ট কিছু ঘরোয়া এবং এর পাশাপাশি কিছু ডাক্তারি উপায় রয়েছে যেগুলো অনুসরন করলে খুবই তাড়াতাড়ি পা ফাটাকে গুড বাই বলে দেওয়া যায়। যেমন- আপনার পা ফাটা রোধ করার জন্য চর্ম ডাক্তারেরা যেই সমস্ত ক্রীম বা অয়েন্টমেন্ট, লোশন ইত্যাদি সাজেশন করে থাকেন সেই সব খুবই গুরুত্বপূর্ণ । যা ব্যবহার করলে অতি শীগ্রই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

আবার আপনি ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ঘরোয়া বা সনাতন পদ্ধতিতেও পা ফাটা রোধ করতে পারবেন। 

পেট্রোলিয়াম জেল ব্যবহার 

শীতকালে ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখার জন্য পেট্রোলিয়াম জেলির অবদান অনস্বীকার্য। শীতের প্রোকোপে বাতাস তার নিজের আদ্রতা হারিয়ে যখন আমাদের ত্বক থেকেও আদ্রতা শুষে নেয় তখন আমাদের ত্বকও আদ্রতাহীন হয়ে পড়ে। এর ফলে ত্বক ওয়ে ওঠে শুষ্ক ও ফ্যাকাসে। যা আমাদের বাড়তি চিন্তার বড় একটা কারণ। এই অসস্তি থেকে আমাদের মুক্তির দরজা খুলে দেয় পেট্রলিয়াম জেলি। যার অবদানের কথা অল্প বিস্তর আজ আলোচনা করবো। 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় এ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো পেট্রোলিয়াম জেলি। এই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে সেইটা আমাদের ত্বকে আদ্রতা সরবরাহ করে থাকে। আমরা যদি পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করি তাহলে এটা শুষ্ক বতাসের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং আমাদের ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি  ত্বককে করে মসৃন, কোমল ও মোলায়েম।

যাদের পা ফাটে, তারা যদি পেট্রোলিয়াম জেলি আপনাদের পায়ের ফাটা অংশে লাগাতে পারেন তাহলে দেখবেন যে পা ফাটা অতি দ্রুততার সাথে কমতে শুরু করে দিয়েছে। 

নারিকেল তেলের সঠিক ব্যবহার

পায়ের গোড়ালী ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় এ আমাদেরকে বিভিন্ন কিছুর সাহায্য নিতে হয়। আমরা আমাদের পা ফাটা রোধ করার জন্য যেমন পেট্রলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে পারি তেমনি আবার নারিকেল তেলের ব্যবহার অতিব মাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পা ফাটা হতে মুক্তি পেতে আমরা পায়ের সেই ফাটা অংশে নারিকেল তেল সকালে একবার আর রাতে একবার লাগিয়ে রেখে দিলে অনেক ভালো ফল পাওয়া যায়। যার ফলে অতি দ্রুততার সাথে পা ফাটা ভালো হয়ে যায়। 


পায়ের গোড়ালির যেই অংশ ফেটে যায়, সেই অংশে নারিকেল তেল লাগানোর জন্য একটি নির্দেশনা মানলে খুবই ভালো হয়। যখন আমরা আমাদের পায়ে নারিকেল তেল ব্যবহার করবো তার পূর্বে উষ্ণ উষ্ণ গরম পানি দিয়ে পায়ের গোড়ালী খুবই ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এর পরে আক্রান্ত সেই ফাটা স্থানে নরিকেল তেল মাখিয়ে নিয়ে মালিস করতে হবে। আর এভাবে কিছুদিন পায়ের যত্ন করলে খুব শীগ্রই পা ফাটা আর থাকবে না

গ্লিসারিন ব্যবহার করা 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় তে পা ফাটা রোধ করতে বিভিন্ন উপাদানের পাশাপাশি গ্লিসারিনও যথেষ্ট ভালো একটি উপাদান হিসেবে পরিগণিত হয়ে থাকে। শীতকালে যখন আমাদের অনেকের পা ফেটে যায়, হাত খসখসে হয়, ত্বক অমসৃন হয়ে ওঠে তাদের জন্য এই গ্লিসারিন হলো জাদুকরি এক তরল উপাদান। সুন্দর করে ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে তারপরে ত্বকে গ্লিসারিন প্রয়োগ করলে সুন্দর ফল মেলে। ত্বকে গ্লিসারিন আদ্রতা বজায় রাখে। 

ইউরিয়ার ব্যবহার

শীতের আগমনে ত্বকে পরিমাণ মতো পুষ্টি উপাদান উৎপাদন এবং সরবরাহ হয়না বলে ত্বক ময়েশ্চারাইজার হারিয়ে ফেলে। অতিরিক্ত চাপের কারণে পায়ের গোড়ালীর চামড়া মোটা এবং শক্ত হয়ে গেলে সেইটা আরও ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে। পায়ের গোড়ালীর কোষ গুলির এই অবস্থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে আলফা-হাইড্রোক্সি এসিড ব্যবহার করা যেতে পারে। 

ইউরিয়া বা এই আলফা-হাইড্রোক্সি এসিড আমরা পায়ের গোড়ালীর ফাটা অংশে যেইভাবে ব্যবহার করব তা হলো- প্রথমে পা গরম পানি দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে, ইউরিয়ার একটা দ্রবণ বানিয়ে তার ভেতরে পায়ের গোড়ালী অবধি ডুবিয়ে রাখতে হবে প্রায় ২০-২৫ মিনিট। তারপরে হালকা করে মেসেজ করতে থাকুন। এভাবে কিছুদিন এই পদ্ধতিতে পায়ের গোড়ালীতে ইউরিয়ার দ্রবণ দিলে তাতে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
 

মধুর ব্যবহার করা 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে মধু খুবই উপকারী একটি উপাদান। শীতকালে যাদের পা ফেটে যায় তারা যদি অতি দ্রুততার সাথে আপনাদের পা ফাটা প্রতিরোধ করতে চান তাহলে পায়ের গোড়ালীর ফাটা অংশে মধুর প্রলেপ লাগিয়ে রাখতে পারেন। এর জন্য প্রথমে আপনাকে কিছু উষ্ণ গরম পানি নিয়ে সেই পানিতে পা ভিজিয়ে রেখে পায়ের গোড়ালীর শক্ত আর মোটা চামড়াকে নরম করে নিতে হবে এবং ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে। যাতে সেখানে কোন ময়লা না থাকে। 

এবার সেই পরিষ্কার করা অংশে পরিমাণ মত মধু নিয়ে আলতো ভাবে লাগাতে হবে। পায়ে ফাটা অংশের চারপাশে বা সমস্ত পায়েও মধু লাগানো যেতে পারে। মধুর প্রলেপ দেওয়া শেষ হলে একটু মেসেজ করে নিবেন আর কিছু সময়ের জন্য রেখে দিন। হতে পারে সেইটা ৩০ মিনিট। তার পরে আপনার পা এবার ধুয়ে ফেলুন। এভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে দেখবেন যে, এই ফর্মুলা আপনার পা ফাটার স্থানকে চমৎকার ভাবে মসৃন এবং চকচকে করে তুলবে। 


হালকা গরম পানি ও লবণের মিশ্রণ

কিছুতেই বা কোন অবস্থাতেই যাদের পা ফাটা কমছে না তারা এই পদ্ধতিটি অবলম্বন করে দেখতে পারেন। আপনারা যদি এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করেন তাহলে আশা করা যায় যে, পা ফাটা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই জন্য প্রথমে আপনারা পা পরিষ্কার করে নিবেন। তারপরে কিছু পরিমাণ পানি এমনভাবে গরম করবেন যেন সেইটা বেশী গরমও না হয় আবার খুব বেশী ঠান্ডাও না থাকে। এরপরে সেই পানিতে কিছু পরিমাণ লবণ মিশিয়ে দিন।

এবার সেই পানিতে যাতে লবণ ভালোভাবে মিশে তার জন্য একটু নাড়িয়ে নিতে হবে। তারপরে সেই পানিতে পায়ের গোড়ালী ডুবিয়ে রাখুন প্রায় ১০-১৫ মিনিটের মত। এভাবে কিছুক্ষণ রাখার পরে পায়ের গোড়ালী পরিষ্কার করে ফেলুন। তাহলেই দেখবেন আপনার পায়ের গোড়ালীর ত্বক হবে নরম আর পাতলা। এই জন্য বলা যায় যে, পায়ের গোড়ালি ফাটাদূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে এই লবণ পানি একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

ভিটামিন জাতীয় খাদ্য খাওয়া 

শীতকালে পা ফাটার মতো বিরক্তিকর এই জিনিসকে দূর করার জন্য প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। কেননা শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই ত্বকে নানা রকমের বাহ্যিক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয়। যেমন- ত্বক ফেটে যাওয়া, রুক্ষ হওয়া, পা ফেটে যাওয়া থেকে শুরু করে সেই স্থান থেকে রক্ত পড়া, শরীর ঝিমিয়ে পড়া, অসস্তি সহ নানান জটিলতা সৃষ্টি হয়। যা আমাদের মানসিকভাবে চিন্তিত করে তুলে।

অন্যান্ন উপায়

  • উপরিউক্ত বিষয় ছাড়াও আরও কিছু উপায় আছে যেগুলো পা ফাটা রোধে দারুনভাবে কার্যকরী। 
  • আমরা যখন গোসল করি তখন যদি আমরা পিউমিস নামক এক ধরনের স্টোন দিয়ে নিয়মিত আমাদের পা পরিষ্কার করি তাহলে পা ফাটা অনেক কমে যাবে। 
  • পায়ের গোড়ালী ধুন্দলের খোসা দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
  • আমরা যদি পায়ে মোজা ব্যবহার করি তাহলে পা ফাটা কমে যেতে পারে। 
  • পায়ের ফাটা অংশে লেবুর রস লাগানো যেতে পারে।
  • পা ফাটার জন্য ক্র্যাক হিল, ইমোলেন্ট প্লাস এবং হিল গার্ড ক্রীম ব্যবহার করা যেতে পারে।

শেষ কথা 

পায়ের গোড়ালি ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায় এর শেষ কথায় আমি বলতে চাই যে, পা ফাটা থেকে রক্ষা পেতে আপনারা নিয়মিত পা পরিষ্কার করুন আর উপড়ে বর্ণিত যেটা আপনার জন্য সহজলভ্য হবে সেই পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করলে আমার মনে হয় যে,অতি দ্রুততার সাথে আপনারা পা ফাটার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে আপনাদের জন্য সবথেকে ভালো আর সহজ উপায় হবে গরম পানি করে নিয়ে পা পরিষ্কার করা ও পায়ের গোড়ালীতে নারিকেল তেল ব্যবহার করা। তাহলেই আশা করবো আপনাদের পা ফাটা কমে যাবে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url