হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানুন
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনও ভালোভাবে জানেই না। তারা জানেনা যে, হার্ট এটাক কেন হয়, কোন কাজ গুলো করলে হার্ট এটাক হয়, কি করলে হার্ট
এটাক থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অথচ যারা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ তারাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রতিদিন হার্ট এটাকের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। অবাঞ্ছিত এই হার্ট এটাক এড়াতে সরকারের ভূমিকা হওয়া উচিৎ অনস্বীকার্য এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
সূচিপত্রঃ হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে বলা যায় যে, যিনি হার্ট এটাক করেছেন,
তাকে হাসপাতালে বা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়াটা হলো প্রথম এবং সর্বপ্রধান কাজ।
যদি আশেপাশে ভালো বা দ্রুততম কোন যানবাহন থাকে তাহলে সেই যানবাহনে করে অতি
দ্রুততার সাথে উক্ত হার্ট এটাক করা ব্যক্তিকে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া
উচিৎ। আবার যদি ভালো কোন যানবাহন না থাকে তবে "৯৯৯" নাম্বারে যোগাযোগ করে একটি
এ্যাম্বুলেন্স এর জন্য সাহায্য চাইতে হবে।
আরও পড়ুনঃ ব্রণের গর্ত দূর করার ঘরোয়া উপায়
যতক্ষণ কোন এম্বুলেন্স না আসে ততক্ষণ হার্ট এটাক করা রোগীকে একটি স্থানে রাখা দরকার যেন, তিনি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এছাড়া হার্ট এটাক করা
ব্যক্তিকে স্বাভাবিক করতে বা তার নিঃশ্বাস নেওয়া যেন বন্ধ না হয়ে যায় সেই জন্য
বুকের ছাতিতে বার বার চাপ দিতে হবে। এছাড়া অন্য উপায় হিসেবে ওই ব্যাক্তিকে
হার্টের ঔষধ হিসেবে এসপিরিন ট্যাবলেট খাওয়ানো যেতে পারে (যদি এলার্জি না থাকে
)। এভাবে কিছুক্ষণ প্রাথমিক ট্রিটমেন্ট করালে রোগীর জ্ঞান ফিরার সম্ভাবণা অনেক
বেশী।
হার্টের রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য এসব প্রাথমিক
চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হার্টের রোগীরা যখন এই অবস্থায় অচেতন থাকেন তখন তাদের
জ্ঞান ফিরিয়ে আনাটা অত্যন্ত জরুরী। তাই এই সময় কোনভাবেই নষ্ট করা যাবে না এবং যত
দ্রুত সম্ভব সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ। তাহলেই সেই ব্যক্তি জীবন ফিরে পেতে পারে।
নচেৎ ছোট কিছু ভুল বা সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে হারিয়ে যেতে পারে একটি জীবন।
কোন ব্যক্তির হার্ট এটাক হলে তিনি যে খুব তাড়াতাড়ি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে
আসবেন অথবা তাকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসাটা খুবই কষ্ট সাধ্য ব্যাপার হয়ে
দাঁড়ায়। তবে এই সময় কোনভাবেই হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না বা ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। বরং
উক্ত সময়ে কি করতে হবে, কি করলে রোগীর শরীরে হার্ট খুব তাড়াতাড়ি সচল হয়ে উঠবে তার
জন্য চেষ্টা করে যাওয়াটা হলো সবথেকে বেশী কার্যকর।
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা এর জন্য আমাদের দেশের সরকারের উচিৎ প্রথমে
জনসচেতন মূলক কার্য করা। প্রয়োজনে নাটক আকারে বা নাট্য মঞ্চ করে হার্ট এটাক এর
প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ছোট-বড় সেমিনার করা। অথবা বাড়িতে বাড়িতে স্বাস্থকর্মীদের পাঠিয়ে জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। যাতে
করে দেশের অধিকাংশ মানুষ হার্ট এটাক সম্পর্কে সঠিক পরামর্শ পেয়ে থাকে এবং এর
প্রতিকার করার উপায় গুলো জেনে রাখে।
হার্ট এটাক কি এবং কেন হয়
আমাদের হৃৎপিন্ড থেকে শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে প্রতিটা
সেকেন্ডে,প্রতিটা মিনিটে বিভিন্ন রকম ধমনির মাধ্যমে রক্ত সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু
হঠাৎ করে কোন কারণবসত যদি এই হৃতপিন্ড থেকে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বা
হৃৎপিন্ডের অক্সিজেন সরবরাহ স্থগিত হয়ে যায় তাহলে শরীর অকেজো হয়ে পড়ে। আর এই
জরুরী অবস্থাকেই বলা হয় হার্ট এটাক। এর ফলশ্রুতিতে দেখতে পাওয়া যায় যে, উক্ত
রোগী ভীষণ ভাবে দুর্বল বা মৃত্যুবরণ করতে পারে।
গভীর বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেখা যায় যে, দেহের করোনারিতে থাকা ধমনীর মাঝে প্লাকের
খুব বেশী উপস্থিতি বা এসব ধমনীতে প্লাকের আক্রমণের কারণে করোনারির ধমনী
অতিরিক্তহারে চিকন হয়ে যাওয়ার ফলে হার্ট এটাকের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। ধমনীর প্লাকের
রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার ফলে ধমনী দিয়ে রক্ত চলাচল করতে পারে না। ফলে হার্ট এটাক
হয়ে থাকে। আবার ধমনীর পেশীর কারণেও হার্ট এটাক হয়ে থাকে।
আরও পড়ুনঃ চুলের যত্নে মেথি ও কালোজিরা কতটা উপকারী
হার্ট এটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা
প্রয়োজন। কেননা হার্ট এটাক খুবই মারাত্মক একটা রোগ। আমরা প্রতিদিন নানান রকমের খাবার খেয়ে থাকি।
বিশেষ করে তেল-চর্বি জাতীয় খাবার না হলে মানুষের খাবারের প্রতি রুচি হারিয়ে যায়।
তাই প্রত্যেকের খাবারের সাথে প্রচুর তেল চর্বি জাতীয় খাবার যেমন- ভাজা-পোড়া, বেশী
তেল দিয়ে রান্না, বিভিন্ন ধরণের মাংস, মাংসের চর্বি, পশুর কলিজা প্রভৃতি খাবার
দিন দিন আমাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উপড়িউক্ত এসমস্ত খাবার আমাদের পেটের ভেতরে গিয়ে শরীরে রক্ত সরবরাহকারী
ধমনীর কাজকে বাহ্যত করে। এসব খাবার ধমনীতে প্রচুর পরিমাণে বাড়তি চর্বি জমিয়ে থাকে
এবং ধমনী দিয়ে রক্ত চলাচলের ক্ষেত্রে বড় বাঁধার সৃষ্টি করে। যখন ধমনীতে চর্বি জমে
তখন রক্ত চলাচল বাহ্যত হয় বলে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাতাস প্রবাহিত না হয়ে
সেইটা হার্ট এটাক হওয়া ব্যাক্তিকে সরাসরি মৃত্যু মুখে ঠেলে দেয়। তাই ভাজা-পোড়া
এবং তেল-চর্বি জাতীয় খাবারকে এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছণীয় হতে পারে।
বিভিন্ন কারণে মানুষের হার্ট এটাক হতে পারে। যেই সকল কারণে হার্ট এটাক হতে পারে
তার কারণ গুলো হলো-
- মানসিকভাবে চাপে থাকা।
- উদ্বেগ বৃদ্ধি পাওয়া।
- নেশা জাতীয় কোমল পানীয় পান করা।
- ধোঁয়া জাতীয় নেশা করা।
- অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার ফলে।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে।
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পারলে।
- শরীরে বাড়তি কোলেস্টেরল জমা হলে।
- বংশগতভাবেও হতে পারে।
- শরীরের বার্ধক্যে, ইত্যাদি কারণে সবথেকে বেশী হার্ট এটাকের মতো ঘটনা ঘটে।
হার্ট এটাকের লক্ষণসমূহ
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পূর্বে আমাদের জানতে হবে যে, হার্ট
এটাকের লক্ষণ গুলো কি কি। অথবা কোন কোন উপসর্গ দেখে বুঝা যাবে যে, উক্ত
ব্যাক্তি যে কোন সময় হার্ট এটাকে আক্রান্ত হতে পারেন, কিংবা তার যেন হার্ট এটাক
না হয় তার পূর্বেই সতর্ক হয়ে থাকা বা প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তাই চলুন এখন আমরা
হার্ট এটাকের পূর্বে যেসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেই সম্পর্কে জেনে নিব-
- শরীরে অসস্তি লাগা।
- বুকের উপড় চাপ পড়া।
- বুকে ব্যাথা অনুভূত হওয়া।
- মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্ট হওয়া।
- শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যাথা অনুভব করা।
- খুবই তাড়াতাড়ি ও খুব বেশী পরিমাণে ক্লান্ত হয়ে যাওয়া।
- মাথা ঘুরা ও অবসাদ লাগা।
- পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হওয়া।
- প্রচুর পরিমাণে বাড়তি টেনশন করা।
- বমি না হলেও সেই ভাব হওয়া। ইত্যাদি।
হার্ট এটাক প্রতিরোধে সমস্ত প্রাথমিক চিকিৎসা
হার্ট এটাক প্রতিরোধের জন্য যেসমস্ত প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে আমরা বেশী
উপকৃত হতে পারি সেসমন্ধে এখন আলোচনা করবো-
- চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
- নেশা ও নেশা জাতীয় খাদ্য না খাওয়া
- শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
- টেনশন না করা
- প্রতিদিন ব্যায়াম করা
- পরিমাণমত ঘুমানো
চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা
চর্বিযুক্ত খাবার আমাদের সুস্থ্য হার্টকে অসুস্থ্য করে তুলতে সবথেকে বেশী
ভূমিকা পালন করে থাকে। চর্বিযুক্ত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স ফ্যাট এবং
স্যাচুরেটেড মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। যা হার্টকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে
সক্ষম। ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবারের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের খোলা কেক,
পক্রিয়াজাত কেক, নানান ধরণের বিস্কুট, প্যাকেটজাত বিস্কুট সহ স্ন্যাকস জাতীয়
খাবার, পক্রিয়াকরণে প্যাটেটিং করে রাখ স্ন্যাকস খাবার। যেগুলো হার্টের জন্য
দারুনভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃকলার খোসার উপকারিতা
উপড়িউক্ত ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবারের পাশাপাশি স্যাচুরেটেড খাবার গুলিও
মারাত্মকভাবে হার্টের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ি থাকে। হার্টের ক্ষতিকরা এসব খাবারের
মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিভিন্ন প্রাণীর মাংস ( হাঁস, মুরগী, গরু, খাসী, ভেঁড়া,
কবুতর,হরিণ প্রভৃতি ), প্রাণী দেহের চামড়াকে খাদ্য হিসেবে খাওয়ার কারণে এবং
প্রাণী দেহের তেল-চর্বিকে খাবার হিসেবে খাওয়ার কারণে হার্টের বড় ক্ষতিসাধন হয়ে
থাকে এবং হার্ট এটাক হতে পারে।
এছাড়া দেখা যায় অতিরিক্তহারে ঘি, পনির, দুগ্ধজাত খাবার, ক্রীম জাতীয় খাবার
প্রভৃতি খাবার কারণে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। বিভিন্ন তেলের দ্বারা হার্ট নষ্ট
হয়ে যেতে পারে যেমন- পাম জাতীয় তেল, নারিকেলের তেল, অতিরিক্ত সয়াবিন তেল
প্রভৃতি খাওয়ার ফলে হার্টে কোলেস্টেরল বেড়ে গিয়ে হার্ট এটাকের মতো ঘটনা ঘটতে
পারে। আবার বিভিন্ন তেল জাতীয় খাবারের মধ্যে ভাজা-পোড়া, বেকারী খাবার প্রভৃতি
রয়েছে। যার কারণে হৃৎপিন্ডের ধমনীতে কোলেস্টেরল জমে হার্ট এটাক হতে পারে।
নেশা ও নেশা জাতীয় খাবার না খাওয়া
নেশা ও নেশা জাতীয় খাবার খাওয়ার কারণে মস্তিস্কের মাঝে থাকা রাসায়নিক পক্রিয়াতে
বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, হার্ট ব্লক হয়ে যায় এবং হৃতপিন্ড সহ
শরীরের অন্যান্ন স্থানে ক্যানসার ছাড়াও বড় বড় রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। যা
মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। নেশা জাতীয় খাদ্যের
মাঝে রয়েছে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধ্বংসকারী বিভিন্ন রং-বেরঙ্গের তরল পদার্থ,
বীজ জাতীয় পদার্থ, ধোঁয়া জাতীয় পদার্থ, ড্রিংকস প্রভৃতি।
হার্ট এটাক সহ নানান ধরনের রোগের উপসর্গ বহনকারী নেশা ও নেশা জাতীয় খাবার গুলোর
মধ্যে রয়েছে- তামাক, কফি, কোকোকোলা, অন্যান্ন ড্রিংকস বা কোমল পানীয়, আফিম,
কোকেন, হেরোইন, এল এস ডি, দামী অ্যালকোহল, সমস্ত রকমের মাদক এবং মাদকজাত দ্রব্য
প্রভৃতি।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
হার্ট এটাকের জন্য বড় একটা ঝুঁকির নাম হলো ওজন বেড়ে যাওয়া। শরীরের ওজন অতিরিক্ত
হারে বৃদ্ধি পেতে থাকলে সেইটা শরীরে রোগ-বালাই এর আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়। যদি কারও
ওজন বৃদ্ধি পেতে থাকে তাহলে সেইটা নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই জরুরী। কেননা এটি আমাদের
শরীরে উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে দায়ী। তাছাড়া অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির
পাশাপাশি রক্তে তথা হৃৎপিন্ডে বাতাস ও রক্ত সরবরাহকারী ধমনী গুলোতে
কোলেস্টেরলের মাত্রা অপরিহার্য ভাবে বেড়ে যায়।
ধমনীতে বৃদ্ধি পাওয়া কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে রক্ত প্রবাহিত না হয়ে
হার্ট এটাকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত ওজন শরীরে ডায়াবেটিসের
মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিৎ আমাদের ওজন যেন আমাদের
নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই তেল-চর্বি জাতীয় খাবার না খেয়ে বরং বেশী শাক-সবজি খাওয়া,
অর্ধ সিদ্ধ খাবার খাওয়া, ফল খাওয়া, গোটা শস্য খাওয়া, এবং প্রোটিন যুক্ত খাবার
খাওয়া প্রভৃতি আমাদের ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
টেনশন না করা
মানুষের হার্ট এটাকের জন্য টেনশন হলো মারাত্মক একটা আত্মঘাতী অস্ত্র। যা তিলে
তিলে কোন ব্যাক্তিকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম। অতিরিক্ত টেনশন শরীরে উচ্চ
রক্তচাপের সৃষ্টি করে, ক্ষতিকর কর্টিসল হরমোনের বৃদ্ধি ঘটায়, হৃৎপিন্ডের
স্পন্দন বৃদ্ধি করে, ধমনীতে রক্ত চলাচল স্থির করে দেয় এবং রক্ত প্রবাহিত করা
ধমনীগুলোকে ব্লক করে দেয়, যার ফলশ্রুতিতে হার্ট এটাক হয়।
প্রতিদিন ব্যায়াম করা
আমাদের শরীরকে সুস্থ্য রাখতে ব্যায়াম করার কোন বিকল্প নেই। কেননা ব্যায়াম
করলে উচ্চ রক্তচাপ কমিয়ে রক্তের চাপকে স্বাভাবিক রাখে, মানসিক চাপকে কমিয়ে
মস্তিস্ককে শাান্ত রাখে, ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগ নিয়ন্ত্রিত হয়, রক্ত এবং
ধমনী থেকে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ফেলে, অতিরিক্ত চর্বি ধ্বংস করে ওজনকে
নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে এবং সর্বোপরি শরীরকে সুস্থ্য রাখতে যাবতীয় ভূমিকা
পালন করে।
প্রতিদিনের ব্যায়ামের ফলে কেবল উপড়িউক্ত বিষয় সমূহই নয়, বরং নিয়মিত ব্যায়ামের
ফলে হার্টের সুস্থ্যতা বজায় থাকে এবং হার্টের যে কর্মক্ষমতা রয়েছে তা দ্বিগুণ
বেড়ে যায়। এজন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৩০-৩৫ মিনিট হাঁটা উচিৎ।
পরিমাণমত ঘুম
যারা হার্ট এটাকে আক্রান্ত হয় তাদের মাঝে অনেকেরই ঘুম নিয়ে যাবতীয় সমস্যা থেকে
থাকে। কারও ঘুম আসে না, কারও ঘুম আসলেও সেইটা দীর্ঘ স্থায়ী হয়না। আমরা জানি যে,
একজন সুস্থ্য মানুষের জন্য প্রতিদিন অন্ততপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম খুবই প্রয়োজন।
কেননা পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম না হলে হার্ট এটাকের চাঞ্চ বাড়ে, রক্তের চাপ বাড়ে,
টেনশন বাড়ে, ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায়, পরিপাক তন্ত্রের কাজ সঠিকভাবে হয় না,
ইত্যাদি সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
এজন্য আমাদের উচিৎ পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, যদি সম্ভব হয় তাহলে, রাত জাগা,
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন,টেলিভিশন প্রভৃতি থেকে বিরত থাকতে হবে অথবা
এগুলোর ব্যবহার কমাতে হবে।
শেষকথা
হার্ট এটাক এর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে আজ আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করলাম।
আর এখানে হার্ট এটাকের মতো জটিল একটা সমস্যার সমাধানে আমরা যা কিছু দিক নিয়ে
আলোচনা করলাম তাতে হার্ট এটাকের প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রতিকারের ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কারও যদি হার্ট এটাক হয়ে থাকে তাহলে আমাদের
টিপস গুলি কাজে লাগাতে পারেন অথবা এগুলো জেনে রাখলে খুবই ভালো হবে।



অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url